সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
১৮ কার্তিক ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> শ্রমিক অসন্তোষে এক দিনে ৫২৯ পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ

>> বান্দরবানে সাকিব চৌধুরীকে মারধরের অভিযোগ, চোখের নিচে চার সেলাই; বিচারের দাবি পরিবারের

>> রাজশাহী বিআরটিএতে দালাল সিন্ডিকেটের দাপট, ঘুষ ছাড়া মিলছে না সেবা!

>> নদী থেকে আওয়ামী লীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার, শরীরে আঘাতের চিহ্ন

>> ব্যালন ডি’অর ভোটে মেসির সেরা তিনে আলজেরিয়ান তরুণ ইব্রাহিম মাজা

>> শ্রমিক অসন্তোষে আশুলিয়ার ১১ পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা

>> ৯ গুলিবিদ্ধ হওয়ার দাবি করে মামলা, হাসিনাসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

>> ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরিতে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের সন্দেহ

>> রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর অনুমোদন

>> মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড

আপনি পড়ছেন : চট্টগ্রাম

‘বন্ধুর লাশ নিয়ে হাসপাতালে আছি, সে আর ফোন ধরবে না’


Rabeya ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:২২



‘বন্ধুর লাশ নিয়ে হাসপাতালে আছি, সে আর ফোন ধরবে না’


রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে ডুবে মারা গেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদ শাহরিয়ার (২৪)। বন্ধুর মৃত্যুর খবরে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাঁর লাশের পাশে আহাজারি করছিলেন সহপাঠী সাইফুল ইসলাম।

সাজিদ ও সাইফুলের বাড়ি নরসিংদী জেলায়। ছোটবেলা থেকেই তাঁরা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। একই বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণি পর্যন্ত একসঙ্গে পড়েছেন। পরে সাজিদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও তাঁদের বন্ধুত্ব অটুট ছিল।

সোমবার সকালে সাজিদ, সাইফুলসহ নয় বন্ধু কাপ্তাইয়ে বেড়াতে যান। সেখানে সীতা পাহাড়ে ট্র্যাকিং শেষে তাঁরা কর্ণফুলী নদীর পাড়ে যান। নদীতে হাত-পা ধোয়ার সময় হঠাৎ পা পিছলে পানিতে পড়ে যান সাজিদ। স্রোতের টানে তিনি ভেসে যেতে থাকেন এবং বন্ধুদের উদ্দেশ্যে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন।

তবে সঙ্গে থাকা কেউ সাঁতার না জানায় তাঁরা পানিতে নেমে তাঁকে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা কর্ণফুলী নদী থেকে সাজিদকে উদ্ধার করে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাজিদের আরেক পরিচিত জহিরুল ইসলাম জানান, সাজিদ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। মাস্টার্স শেষ করে দেশে থেকে পরিবারের পাশে থাকার ইচ্ছা ছিল তাঁর।

সহপাঠীরা জানান, সাজিদ পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও ভ্রমণ পছন্দ করতেন। বিশেষ করে পাহাড়ে ট্র্যাকিং ছিল তাঁর প্রিয়। ফুটবলেও তাঁর আগ্রহ ছিল এবং তিনি আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির ভক্ত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে সম্প্রতি ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ও হয়েছিলেন।

পড়াশোনাতেও ভালো ছিলেন সাজিদ। সর্বশেষ সেমিস্টার পরীক্ষায় তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩ দশমিক ৮০ বলে সহপাঠীরা জানান।

বন্ধুদের সঙ্গে হঠাৎ করেই কাপ্তাই বেড়াতে গিয়েছিলেন সাজিদ। তাঁর পরিবারের সদস্যরা এ ভ্রমণের বিষয়টি জানতেন না বলে জানিয়েছেন সহপাঠী ইসরাফিল হোসেন।

সাজিদের স্বজনেরা জানান, তিনি পরিবারের সবার অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।