চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের বরাদ্দের তুলনায় অতিরিক্ত জমি দখলে রাখার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির অভিযোগ, এ ঘটনায় সরকারের ১ কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়নি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তাপসীর বিল্লাহ বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪২৭ ও ৪৪৭ ধারায় মামলাটি করেন। দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, মাহবুব রহমানের প্রতিষ্ঠান গ্যাসমিন লিমিটেডকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের ৭৪ শতক জমি ইজারা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবে ২ দশমিক ২৮ একর জমি দখলে রেখেছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১২ মার্চ পশ্চিম হিঙ্গুলি মৌজায় ৭৪ শতক জমি ব্যবহারের জন্য রেলওয়ের সঙ্গে গ্যাসমিন লিমিটেডের চুক্তি হয়। বার্ষিক নবায়নযোগ্য অস্থায়ী লাইসেন্সের আওতায় প্রতিষ্ঠানটিকে জমিটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
তবে মিরসরাই উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনে রেলওয়ের দুটি প্লটে মোট ২ দশমিক ২৮ একর জমি প্রতিষ্ঠানটির দখলে থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এসব জমিতে কারখানা, অফিস ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ছিল বলে দুদকের অভিযোগ।
এ ছাড়া সরকারি নথিতে থাকা একটি পুকুর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ভরাট করার অভিযোগও আনা হয়েছে। পুকুর ভরাট কিংবা জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অনুমোদনসংক্রান্ত কোনো নথি পাওয়া যায়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের নথিতে আরও বলা হয়, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে রেলওয়ের এক পরিদর্শনেও গ্যাসমিন লিমিটেডের বিরুদ্ধে জমি দখল করে কারখানা নির্মাণের তথ্য উঠে এসেছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির নামে জমি ইজারা দেওয়ার আগেই সেখানে কারখানা নির্মাণ করা হয়। দখলে থাকা জমির কিছু অংশ অন্য ব্যক্তিদের কৃষিকাজ ও মাছ চাষের জন্য লাইসেন্স দেওয়ার তথ্যও রয়েছে।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ২ দশমিক ২৮ একর জমির বিপরীতে ভ্যাট ও আয়করসহ মোট ১ কোটি ৫৭ লাখ ৩১ হাজার ৬৪৬ টাকা ইজারা রাজস্ব প্রাপ্য ছিল। এর বিপরীতে ৭৪ শতক ইজারাকৃত জমির জন্য মাহবুব রহমান ৪৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৯ টাকা পরিশোধ করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের হিসাব অনুসারে, এতে বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার ১১৭ টাকা। সংস্থাটির অভিযোগ, ইজারার বাইরে অতিরিক্ত ১ দশমিক ৫৪ একর জমি দখলে রাখার ফলে রেলওয়ে ও সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ঘটনায় দায় নির্ধারণ ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মামলাটি করা হয়েছে। তবে মামলায় আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।