চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনিয়ম, সরকারি নথি অবৈধভাবে লেনদেন এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাবেক উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির ওয়াহিদুল্লাহ সিকদার ও ধলঘাট ভূমি অফিসের কর্মী শহিদুল আলম ফরহাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. মিন্টু আলম। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, শহিদুল আলম ফরহাদের মামা মো. ইউনুছ পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত থাকার সময় তাঁর প্রভাবে ২০১২ সালে ফরহাদকে ধলঘাট ভূমি অফিসে ঝাড়ুদার পদে বেসরকারিভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগকারীর দাবি, এরপর দীর্ঘ ১৪ বছর কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও তিনি বেতন উত্তোলন করেছেন এবং বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়েছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নামজারি, বন্দোবস্তি, ডিসি এবং পাঁচ তহসিলের রেকর্ডরুমের দায়িত্বকে কেন্দ্র করে সরকারি নথি অবৈধভাবে লেনদেনের সঙ্গে ফরহাদ জড়িত ছিলেন। ২০২৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ওয়াহিদুল্লাহ সিকদার তাঁকে অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন মিন্টু আলম।
এ ছাড়া অভিযুক্তদের বাড়ি, জমি ও গাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে এসব সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
মিন্টু আলমের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ মার্চ তাঁর বন্দোবস্ত-সংক্রান্ত একটি ফাইলের (স্মারক নম্বর ৫৪১, ডকেট নম্বর ৩০৬) বিষয়ে যোগাযোগ করলে তাঁকে ফরহাদের সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। পরে ওই কাজের জন্য ফরহাদ ১০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাঁর কাজটি সম্পন্ন হয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, গত ৩১ আগস্ট বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরহাদকে অফিস থেকে বের করে দেন। এরপর ফাইলের খোঁজ নিতে ফরহাদের বাড়িতে গেলে ওয়াহিদুল্লাহ সিকদার, ফরহাদ এবং পটিয়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপপরিদর্শক (এসআই) সমীর ভট্টাচার্যের যোগসাজশে তাঁকে ২৬ ঘণ্টা হাজতে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন মিন্টু আলম।
অভিযোগকারী অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব তলব করে তাঁদের সম্পদের উৎস এবং সম্ভাব্য অবৈধ সম্পদের বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর যথাযথ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াহিদুল্লাহ সিকদার মুঠোফোনে বলেন, “আমি মিন্টুকে চিনি না। আমি একজন মিন্টুকে চিনি, মিন্টু আলম মামলাবাজ।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত শহিদুল আলম ফরহাদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফল জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং অভিযুক্ত সবার বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।