কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কার্যালয় চত্বরে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনার নেপথ্যে কী রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঘটনাটি দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে ঘটেছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা অনুসন্ধান করবে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এ বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনামুখী লংমার্চ এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। তবে বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় কুমিল্লার সংঘর্ষের ঘটনা।
দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের একাধিক সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, কুমিল্লার ঘটনাটি জামায়াতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। ঘটনার পেছনে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে কি না, কিংবা অন্য কোনো পক্ষের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
এবি পার্টির নেতার সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানীকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে দলটি। তবে জামায়াতের কার্যালয়ে সংঘটিত ঘটনাটির সঙ্গে এবি পার্টির এই নেতার সংশ্লিষ্টতা কীভাবে তৈরি হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং এর পেছনে কোনো সাংগঠনিক বিরোধ বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা কেন্দ্র থেকে অনুসন্ধান করা হবে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, ঘটনাটিকে জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ হিসেবে যেভাবে আলোচনা করা হচ্ছে, বিষয়টি ঠিক তেমন নয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ, এর পেছনে কারা রয়েছেন এবং এবি পার্টির একজন নেতা কীভাবে এতে যুক্ত হলেন—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার ব্যাপারে নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কার্যালয় চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার গোলাম মোহাম্মদ সামদানীকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় এবি পার্টি। দলটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তাঁকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে অবিলম্বে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।
তবে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার পেছনে কারা রয়েছেন, তা এখনো অনুসন্ধানের বিষয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
সূত্র: প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট দলের বক্তব্য।