মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশি নাগরিক রিমান্ডে

>> ২৮ বছরেও সংযোগ সড়ক হয়নি, অচল বুড়িচংয়ের সেতু

>> পাটের আঁশে লাভের আশা, ভালো ফলনে খুশি সাতক্ষীরার কৃষকেরা

>> রোগী পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে স্পিডবোট-বাল্কহেড সংঘর্ষ, নিহত ২

>> ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন: পাঁচ সিঁড়ির চারটিই ছিল তালাবদ্ধ

>> লালমাটিয়ায় সাবেক এমপি আজিজুল হক আটক, পুলিশের হাতে তুলে দিল ছাত্রদল

>> ইমরানের পাশে দাঁড়িয়ে মাইকেল হোল্ডিং: ‘কেউ মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করে না’

>> মন্দ ধারণার সুযোগ না দেওয়ার শিক্ষা নবীজির জীবন থেকে

>> জেনডায়া–টম হল্যান্ডের বিয়ে হয়েছে কি না, জানালেন স্টাইলিস্ট

>> যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যে সতর্কতা হার্ভার্ডের

আপনি পড়ছেন : কুমিল্লা

২৮ বছরেও সংযোগ সড়ক হয়নি, অচল বুড়িচংয়ের সেতু


Rabeya ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:৩৪



২৮ বছরেও সংযোগ সড়ক হয়নি, অচল বুড়িচংয়ের সেতু


কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল ইউনিয়নের বাকশিমুল গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ঘুংঘুর নদ। এই নদীর ওপর প্রায় ২৮ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি সেতু। তবে সেতু নির্মাণের এত বছর পরও দুই পাশে সংযোগ সড়ক তৈরি না হওয়ায় সেটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী হয়ে ওঠেনি।

প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ ও ১০ ফুট প্রশস্ত সেতুটি বর্তমানে মূলত পথচারীদের পারাপারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে পূর্ব পাশে নয়টি সিঁড়ি তৈরি করেন। অপর পাশে কোনো স্থায়ী সিঁড়ি না থাকায় মাটি ও বালুর বস্তা দিয়ে কোনোমতে ওঠানামার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সেতুটি মাটি থেকে বেশ উঁচু ও খাড়া হওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে ভোগান্তি হয়। অনেক সময় ওঠানামার সময় ভারসাম্য হারিয়ে মানুষ পড়ে গিয়ে আহতও হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

সেতুর পূর্ব প্রান্তের কাছেই একটি পাকা সড়ক রয়েছে। পশ্চিম পাশেও প্রায় ২০ ফুট দূরে পাকা রাস্তা আছে। স্থানীয়দের দাবি, দুই পাশের সড়কের সঙ্গে সেতুটির সংযোগ তৈরি করা হলে এটি সহজেই যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব।

বাকশিমুল গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, বাকশিমুল ইউনিয়নের বড় গ্রামগুলোর একটি এটি। সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা গেলে শুধু বাকশিমুল নয়, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন।

আরেক বাসিন্দা মোসলেহ উদ্দিন বলেন, সেতু দিয়ে গাড়ি চলতে না পারায় স্থানীয়দের ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। তাঁর মতে, সময়মতো প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা উদ্যোগ নিলে এতদিনে সেতুটি মানুষের কাজে আসত। এখন নতুন করে একই ধরনের সেতু নির্মাণ করতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। তাই বিদ্যমান সেতুর দুই পাশে রাস্তা নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে এটি ব্যবহারযোগ্য করার দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতুটি নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও এর রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংযোগ সড়ক তৈরিতে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি সেতুটি কোন সরকারি সংস্থার মাধ্যমে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়েও অনেকের মধ্যে ছিল অনিশ্চয়তা।

বাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল করিম জানান, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তাঁর ধারণা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে এটি নির্মিত হয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেতুটি নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে যানবাহন চলাচলের সুযোগ নেই। দুই পাশে রাস্তা তৈরি হলে সেতুটি এখনো কাজে লাগানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

বুড়িচং উপজেলার সাবেক এলজিইডি প্রকৌশলী আলিফ আহমেদ জানান, সেতুটি এলজিইডির মাধ্যমে নির্মিত হয়েছিল। নির্মাণের সময় সংযোগ সড়কের জন্য স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় জায়গা রাখার কথা বলা হয়েছিল। পরে ওই জায়গার একটি অংশ নিয়ে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও মামলা হয়। মামলা চলমান থাকায় সেখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।

বুড়িচং উপজেলা এলজিইডির বর্তমান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ বলেন, তিনি সম্প্রতি উপজেলায় দায়িত্ব নিয়েছেন। তাই সেতুটির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য তাঁর জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।

বাকশিমুল গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা মফিজুর রহমান বলেন, সেতুটি বড় হলেও এর ওপর দিয়ে কখনো যানবাহন চলাচল করেনি। মানুষকে শুধু হেঁটেই নদ পার হতে হয়েছে। সেতু নির্মাণের আগে নৌকায় নদ পারাপার করতে হতো। সেতু হওয়ার পর মানুষের দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় উল্টো ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং সেতুটির প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হোক।