পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেট কিংবদন্তি ইমরান খানের কারাবাস এবং তাঁর সঙ্গে আচরণ নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক পেসার মাইকেল হোল্ডিং। ইমরানের চিকিৎসা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবিতে আন্তর্জাতিক সাবেক অধিনায়কদের উদ্যোগের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।
‘হুইসপারিং ডেথ’ নামে পরিচিত হোল্ডিং ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত ফাস্ট বোলার। একসময় তাঁর নিখুঁত রানআপ ও ভয়ংকর গতির প্রশংসা করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের আরেক কিংবদন্তি অ্যান্ডি রবার্টস। ক্রিকেট ছাড়ার পর ধারাভাষ্যকার হিসেবেও নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেন হোল্ডিং।
সম্প্রতি ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের ক্রিকেট পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় ইমরান খানের প্রসঙ্গ উঠে আসে। হোল্ডিং বলেন, বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে দেখার প্রয়োজন নেই; বরং একজন মানুষের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, সেটিই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
ইমরান খানের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ পরিচয়ের কথাও তুলে ধরেন হোল্ডিং। তিনি জানান, ক্রিকেট মাঠে ইমরানের বিপক্ষে খেলেছেন। পাশাপাশি ক্রিকেটের বাইরেও তাঁদের যোগাযোগ ছিল। বিশেষ করে ইমরান যখন লন্ডনে ক্যানসার হাসপাতালের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছিলেন, তখন তাঁর সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন হোল্ডিং এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার চেষ্টা করেছেন।
এই দীর্ঘ পরিচয়ের কারণে ইমরানের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে তাঁর ধারণা রয়েছে বলেও জানান সাবেক এই পেসার। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইমরানের সঙ্গে যা ঘটছে, তা তাঁর কাছে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইমরানের চিকিৎসা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে এর আগে ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্স, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্রায়ান লারা, পাকিস্তানের জাভেদ মিয়াঁদাদ ও ওয়াসিম আকরামের মতো সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেট তারকারা।
হোল্ডিং জানান, ওই চিঠির প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তাঁর মতে, একজন বন্দীকেও মানবিক মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ইমরানের সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, তার কোনো যৌক্তিক কারণ তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। এমনকি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও মানবিক আচরণ ও চিকিৎসার অধিকার থাকা উচিত বলে মত দেন তিনি।
ইমরান খানের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে হোল্ডিং আরও বলেন, পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত পরিচিত একজন ব্যক্তি। তাই তাঁর সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে দেখে বিষয়টি তাঁর কাছে আরও বিস্ময়কর মনে হয়েছে।
১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ইমরান খান। ২০১৮ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০২২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতা ছাড়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং বিভিন্ন মামলায় সাজা পাওয়ার পর তিনি কারাগারে রয়েছেন।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁর চিকিৎসা ও কারাগারে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা নিয়ে পরিবার ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
অন্যদিকে মাইকেল হোল্ডিং ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৬০টি টেস্টে ২৪৯ উইকেট এবং ১০২টি ওয়ানডেতে ১৪২ উইকেট নিয়েছেন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে দীর্ঘদিন ক্রিকেট ধারাভাষ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর গভীর ও পরিশীলিত কণ্ঠের কারণে ধারাভাষ্য জগতেও তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০২১ সালে তিনি ধারাভাষ্য থেকে অবসর নেন।
ইমরান খানকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতিতে হোল্ডিংয়ের বক্তব্য আবারও আলোচনায় এনেছে ক্রিকেটের কিংবদন্তিদের মানবিক অবস্থান এবং সাবেক সতীর্থের প্রতি তাঁদের সমর্থনের বিষয়টি।