কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে ছবি, লেখা ও নানা ধরনের কনটেন্ট তৈরি এখন অনেকের দৈনন্দিন কাজের অংশ হয়ে উঠেছে। একটি ছোট প্রম্পট দিয়েই কয়েক সেকেন্ডে ছবি তৈরি করা সম্ভব। তবে এই সুবিধার পেছনে রয়েছে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, যার পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও আলোচনা বাড়ছে।
এআই সেবা পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত ডেটা সেন্টারে হাজার হাজার শক্তিশালী প্রসেসর ও সার্ভার থাকে। এসব যন্ত্র দীর্ঘ সময় কাজ করার ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে। তাই সার্ভারগুলো সচল রাখতে প্রয়োজন হয় কার্যকর শীতলীকরণ ব্যবস্থা। অনেক ডেটা সেন্টারে এ কাজে পানি ব্যবহার করা হয়।
এআই ব্যবহারে ঠিক কত পানি খরচ হয়, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। কারণ পানির ব্যবহার নির্ভর করে ডেটা সেন্টারের অবস্থান, আবহাওয়া, কুলিং প্রযুক্তি, ব্যবহৃত প্রসেসর এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের পদ্ধতির ওপর।
কিছু গবেষণায় এআইয়ের একটি সাধারণ প্রম্পটের পেছনে তুলনামূলক বেশি পানির ব্যবহার দেখানো হলেও প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সেই পরিমাণ অনেক কমেছে। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, তাদের জেমিনাই চ্যাটবটে মাঝারি আকারের একটি প্রম্পট প্রক্রিয়াকরণে কয়েক ফোঁটা পানির সমপরিমাণ পানি ব্যবহার হতে পারে।
একটি ছবি তৈরিতে পানির ব্যবহারও নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যায় বেঁধে দেওয়া যায় না। কারণ ছবির আকার, জটিলতা, মডেল, প্রসেসিং সময় এবং ডেটা সেন্টারের কুলিং ব্যবস্থা অনুযায়ী এর পরিমাণ পরিবর্তিত হয়। একটি ছবি তৈরিতে পানির ব্যবহার সামান্য হলেও কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন এআই ব্যবহার করলে সম্মিলিত প্রভাব অনেক বড় হতে পারে।
শুধু সার্ভার ঠান্ডা করতেই পানি প্রয়োজন হয় না। ডেটা সেন্টার চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও পানি ব্যবহার হতে পারে। বিশেষ করে কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিভিন্ন ধাপে পানি প্রয়োজন হয়।
এ কারণে বিশেষজ্ঞরা সৌর ও বায়ুশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো পানির ব্যবহার কমাতে নতুন ধরনের কুলিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।
অ্যামাজন, মাইক্রোসফট ও গুগলের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি তরল ব্যবহার করে প্রসেসর ঠান্ডা করার লিকুইড কুলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এতে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় পানি ব্যবহারের পরিমাণ কমানো সম্ভব।
এ ছাড়া নতুন প্রজন্মের প্রসেসর তুলনামূলক বেশি তাপমাত্রায় কাজ করতে সক্ষম হওয়ায় কম পানি ব্যবহার করেও ডেটা সেন্টার পরিচালনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ফ্যানভিত্তিক কুলিং এবং যন্ত্রাংশকে সরাসরি তরলের মধ্যে রেখে ঠান্ডা করার ‘ইমারশন কুলিং’ প্রযুক্তি নিয়েও পরীক্ষা চলছে।
তাই এআই দিয়ে একটি ছবি তৈরি মানেই বিপুল পরিমাণ পানি নষ্ট হওয়া—এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। তবে বিশ্বজুড়ে এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়ছে, ডেটা সেন্টারের পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।