সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> কলকাতার চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত বাংলাদেশের দুই সিনেমা

>> হরমুজ নিয়ে ইরান-উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক স্থগিত, কূটনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা

>> নতুন লিফটের ব্যবস্থা করার দাবি ডাকসুর, ডিন বললেন ‘মিথ্যাচার’

>> বিজিবিতে সিপাহী পদে চাকরি, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর

>> নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে আপত্তি কেন, ব্যাখ্যা দিল বিসিসিআই

>> সড়ক দুর্ঘটনার শিকার পরিবারগুলোর জন্য বিআরটিএর ৯৮ লাখ টাকার সহায়তা

>> চোটে এবার মাঠের বাইরে আলভারেজ

>> ঢাকা দক্ষিণ সিটির নতুন চার ওয়ার্ডে ১৩০ কোটি টাকার প্রকল্প বিবেচনায়

>> গাজীপুরে দুই মাদ্রাসাছাত্রকে নির্যাতন, গরম খুন্তির ছ্যাঁকা: গ্রেপ্তার ৩ শিক্ষক

>> বিয়ের আনন্দ শেষে বাড়ি ফেরা হলো না চারজনের

আপনি পড়ছেন : বিনোদন

কলকাতার চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত বাংলাদেশের দুই সিনেমা


Rabeya ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:৪০



কলকাতার চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত বাংলাদেশের দুই সিনেমা


কলকাতায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-এ সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশের দুটি চলচ্চিত্র। উৎসবের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে সেরা ছবির পুরস্কার অর্জন করেছে পিপলু আর খানের পরিচালনায় নির্মিত ‘জয়া আর শারমিন’। অন্যদিকে প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে বিচারকদের বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে মকবুল চৌধুরীর ‘মামুন: ইন প্রেইজ অব শ্যাডোজ’

ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব ইন্ডিয়ার (এফএফএসআই) পূর্বাঞ্চল শাখার আয়োজনে কলকাতার নন্দন-৩ প্রেক্ষাগৃহে গত ৮ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। ছয় দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানে রোববার সন্ধ্যায় বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

‘জয়া আর শারমিন’ ছবিটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে সেরা ছবির ‘বিমল রায় গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করে। একই উৎসবে বাংলাদেশের ‘মামুন: ইন প্রেইজ অব শ্যাডোজ’ প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে পায় জুরি মেনশন বা বিচারকদের বিশেষ স্বীকৃতি।

ছবিটির প্রযোজক আবু শাহেদ ইমন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে উৎসবের আয়োজক, চলচ্চিত্র সমালোচক, নির্মাতা ও দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, এই স্বীকৃতি ছবির শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য যেমন অনুপ্রেরণার, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

ছয় দিনের উৎসবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মোট ৩৮টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। এর মধ্যে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে ছিল ১৯টি সিনেমা। বাংলাদেশ ও ভারতের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা, ইরান, স্পেন, জার্মানি, কোস্টারিকা, পর্তুগাল, ব্রাজিল, ভেনেজুয়েলা ও উজবেকিস্তানের চলচ্চিত্রও উৎসবে অংশ নেয়।

পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে দ্বিতীয় সেরা ছবির ‘বিমল রায় সিলভার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে ভারতের অসমিয়া ভাষার সিনেমা ‘রিভার টেলস’। পঙ্কজ বরা পরিচালিত ছবিটি এই সম্মান অর্জন করে। একই বিভাগে জুরি মেনশন পেয়েছে শ্রীলঙ্কার ‘প্যানট্রাম’, যার পরিচালক নাদিয়ে ওয়াসালামুদালিআরাচ্চি।

প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে সেরা ছবির ‘হরিসাধন দাশগুপ্ত গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে রণজিৎ রায় পরিচালিত ‘ডলস ডোন্ট ডাই: পুতুলনামা’। দ্বিতীয় সেরা প্রামাণ্যচিত্রের ‘হরিসাধন দাশগুপ্ত সিলভার অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে দীপ ভূঞার ‘রিভার স্টিল ফ্লোজ’।

এদিকে স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র বিভাগে সেরা ছবির ‘চিদানন্দ দাশগুপ্ত গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে ড. ধৃতিশ্রী সরকার পরিচালিত ‘দ্য টেল অব কথা’। দ্বিতীয় সেরা ছবির পুরস্কার পেয়েছে ইরানি চলচ্চিত্র ‘সাডেনলি রাইজ’, যার পরিচালক মোহাম্মদ সাজাদ মোতাহারিজাদেহ।

‘জয়া আর শারমিন’-এর গল্প

করোনাভাইরাস মহামারির সময়কার লকডাউনকে পটভূমি করে নির্মিত ‘জয়া আর শারমিন’ একটি ৮৬ মিনিটের বাংলা ভাষার মনস্তাত্ত্বিক চলচ্চিত্র। সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে অভিনেত্রী জয়া এবং তাঁর গৃহকর্মী শারমিনের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে।

লকডাউনের কারণে একই ছাদের নিচে দীর্ঘ সময় আটকে থাকা দুই নারীর একাকিত্ব, মানসিক নির্ভরতা এবং সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন গল্পে উঠে এসেছে। পাশাপাশি তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে থাকা সামাজিক শ্রেণি ও ক্ষমতার পার্থক্যও তুলে ধরা হয়েছে।

চলচ্চিত্রটির জয়া চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান। শারমিন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মঞ্চাভিনেত্রী মহসিনা আক্তার।

গল্প রাজ্য ফিল্মসের আবু শাহেদ ইমন, সি-তে সিনেমার জয়া আহসান এবং অ্যাপলবক্স ফিল্মসের পিপলু আর খান যৌথভাবে সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন।

কলকাতার এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে একই সঙ্গে বাংলাদেশের দুটি সিনেমার স্বীকৃতি পাওয়াকে দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের জন্য ইতিবাচক অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।