ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের একাডেমিক ভবনে দীর্ঘদিন ধরে একটি লিফট অকেজো পড়ে থাকায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। লিফটটি মেরামত করে সচল করা হবে, নাকি নতুন লিফট স্থাপন করা হবে—এ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দেখা দিয়েছে অনুষদ কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
ডাকসুর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে তারা ইতোমধ্যে একটি নতুন লিফটের ব্যবস্থা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে দ্রুত সেটি এনে স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব।
তবে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক আল আমিনের দাবি, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই লিফটের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছেন। পুরোনো লিফটটি দ্রুত সচল করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নতুন লিফট স্থাপনের বিষয়েও তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। ডাকসুর পক্ষ থেকে নতুন লিফটের ব্যবস্থা করার প্রচারকে তিনি ‘মিথ্যাচার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অনুষদ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য ২০০৬ সালে স্থাপন করা লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে অচল। ফলে ভবনের বিভিন্ন তলায় যাতায়াতে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অধ্যাপক আল আমিন রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর তিনি ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর অনুষদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানে কাজ করছেন তিনি। এর অংশ হিসেবে লিফটের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।
তাঁর দাবি, গত ৬ সেপ্টেম্বর কারিগরি কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে ১৫ দিনের মধ্যে পুরোনো লিফটটি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে লিফটটি মেরামতের পরিবর্তে নতুন লিফট প্রয়োজন হলে সেটির ব্যবস্থা করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ডিনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব উদ্যোগের তথ্য অনুষদের অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপেও জানানো হয়েছিল।
এদিকে ডাকসুর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট-বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম তাঁকে ফোন করে নতুন লিফট স্থাপনের কথা জানান বলেও দাবি করেন অধ্যাপক আল আমিন। তাঁর বক্তব্য, তিনি মাজহারুল ইসলামকে জানান যে লিফটের ব্যবস্থা তিনি নিজেই করছেন এবং এ বিষয়ে ডাকসুর সহযোগিতার প্রয়োজন নেই।
পরে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন বলে জানান তিনি। রোববার বেলা ১১টায় সাক্ষাতের কথা থাকলেও সাদিক কায়েম আসতে পারেননি। ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ তাঁকে জানান, সাদিক কায়েমের মা অসুস্থ থাকায় তিনি আসতে পারেননি।
এরপর ডাকসুর কয়েকজন সদস্য ডিনের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। অধ্যাপক আল আমিনের দাবি, সেখানে তিনি তাঁদের জানান, লিফটের বিষয়টি তিনি নিজেই দেখছেন।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডাকসুর পক্ষ থেকে নতুন লিফটের ব্যবস্থা করার খবর প্রচার হতে দেখেন বলে জানান ডিন। এ প্রসঙ্গে নিজের পোস্টে তিনি লেখেন, কোনো সমস্যার সমাধান না করে প্রচারের জন্য ভুল তথ্য ছড়ানো রাজনৈতিক আদর্শ হতে পারে না।
অন্যদিকে ডাকসুর নেতা মাজহারুল ইসলামও ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে দাবি করেন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের একাডেমিক ভবনের লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় তাঁরা নতুন লিফটের ব্যবস্থা করেছেন।
তাঁর বক্তব্য, ডিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ডাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যখন চাইবে, তখনই নতুন লিফট আনার ব্যবস্থা করা সম্ভব এবং স্থাপনের কাজ শুরু করা যাবে। এ জন্য প্রশাসনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।
মাজহারুল ইসলাম বলেন, লিফটের সমস্যা দীর্ঘদিনের। আগের ডিনের সময় থেকেই নতুন লিফটের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তাঁরা। গত আগস্টে উপাচার্যের সঙ্গে ডাকসুর কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপিত হয়। তাঁর দাবি, তখন লিফটের দায়িত্ব ডাকসুকে নিতে বলা হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন লিফটের জন্য একজন স্পনসরও সংগ্রহ করা হয়।
তবে অধ্যাপক আল আমিন দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরোনো লিফট সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানালে ডাকসুর সংগ্রহ করা নতুন লিফট তিনি নিতে চাননি বলে দাবি করেন মাজহারুল।
তাঁর ভাষ্য, প্রশাসন চাইলে ডাকসু এক দিনের মধ্যেই নতুন লিফট আনার ব্যবস্থা করতে পারবে—শিক্ষার্থীদের অবগত করার জন্যই মূলত বিষয়টি জানানো হয়েছে। এখানে প্রচারের নামে ‘মিথ্যাচারের’ কোনো সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (মেইনটেন্যান্স) মো. আহসান হাবিব জানিয়েছেন, লিফটটি সচল করার বিষয়ে অনুষদের ডিন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার থেকেই লিফট মেরামতের কাজ শুরু হওয়ার কথা।
লিফট সংগ্রহের দায়িত্ব ডাকসুকে দেওয়া হয়েছিল—এমন দাবি অবশ্য নাকচ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, লিফট সংগ্রহের কোনো দায়িত্ব তিনি ডাকসুকে দেননি। তাঁর মতে, ডাকসুর কাজ হলো প্রশাসনকে সমস্যার কথা জানানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরই নেওয়ার কথা।
লিফটের সমস্যা সমাধান নিয়ে দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে এখন শিক্ষার্থীদের মূল প্রত্যাশা—দীর্ঘদিনের অচল লিফটটি দ্রুত সচল করা অথবা কার্যকরভাবে নতুন লিফট স্থাপন করা।