সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ডেঙ্গুতে এক দিনে রেকর্ড সংক্রমণ, মৃত্যু ৮

>> ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ‘হাইওয়ে’র গানে মাতল তারুণ্য

>> এআই দিয়ে একটি ছবি তৈরিতে কত পানি খরচ হয়?

>> আগামীকাল রাত থেকে শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিকের আশ্বাস

>> দোকানের মালিকানা নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৯

>> মানিকগঞ্জে সেলফি পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

>> সহপাঠীর বাবার বিরুদ্ধে শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ, ঘরের মেঝেতে মরদেহ পুঁতে রাখার দাবি

>> কলকাতার চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত বাংলাদেশের দুই সিনেমা

>> হরমুজ নিয়ে ইরান-উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক স্থগিত, কূটনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা

>> নতুন লিফটের ব্যবস্থা করার দাবি ডাকসুর, ডিন বললেন ‘মিথ্যাচার’

আপনি পড়ছেন : ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ‘হাইওয়ে’র গানে মাতল তারুণ্য


Rabeya ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:২৮



ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ‘হাইওয়ে’র গানে মাতল তারুণ্য


বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তির পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন করা হয়। সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে শুরু হয় সাংস্কৃতিক আয়োজন।

অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘হাইওয়ে’ সংগীত পরিবেশন করে। ব্যান্ডটির শিল্পী হাসান ইথারের গানে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এর আগে বেলা পৌনে ১২টার দিকে কলেজের মূল ক্যাম্পাসের পাশে নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নবীনবরণ শুরু হয়। পরে বিকেলে দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু হয়। এরপর ঢাকায় থেকে আসা ‘হাইওয়ে’ ব্যান্ডের হাসান ইথার ও তাঁর দলের সদস্যরা মঞ্চে ওঠেন। কয়েকটি গান পরিবেশনের পর আসরের নামাজের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। বিরতির পর আবারও সংগীত পরিবেশন করেন তাঁরা।

অনুষ্ঠান ঘিরে কলেজের প্রধান ক্যাম্পাস, আশপাশের সড়ক এবং দক্ষিণ ক্যাম্পাসে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়। কলেজের অর্থনীতি বিভাগের একটি পরিত্যক্ত ভবনের ছাদেও অনেক শিক্ষার্থী অবস্থান নেন। আশপাশের কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠান দেখতে সেখানে উপস্থিত হন।

দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর নবীনবরণ আয়োজন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। কয়েক দিন ধরে অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা।

কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতারা জানান, শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মাঠের পরিবর্তে দক্ষিণ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান হওয়ায় দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরা আনন্দ করার সুযোগ পেয়েছেন।

নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব। কলেজ অধ্যক্ষ এ কে এম ওবায়দুল হকের সভাপতিত্বে জেলা বিএনপি ও জেলা পরিষদের কয়েকজন নেতাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কলেজের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শ্রেণির নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তবে অনুষ্ঠানে কনসার্ট আয়োজনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে তা বন্ধের দাবি তুলেছিল জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। এ নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।

পরে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে মূল ক্যাম্পাসসংলগ্ন মাঠের পরিবর্তে দক্ষিণ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে গত ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের কারণে ওই অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়। এছাড়া গত ৩০ মে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তির পর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনও বন্ধ হয়ে যায়।