প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ আগস্ট ভোলা সার্কেলে অনুষ্ঠিত ড্রাইভিং পরীক্ষায় ১৭৮ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ১৩৯ জন অকৃতকার্য এবং ৩৯ জন উত্তীর্ণ হন। ভুক্তভোগীদের দাবি, উত্তীর্ণদের মধ্যে অনেকেই ভারী যানবাহন চালিয়ে পরীক্ষা না দিয়ে শুধুমাত্র প্রাইভেটকার চালিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কয়েকজন প্রার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকা সত্ত্বেও ভারী লাইসেন্স পেয়েছেন।
একই ধরনের অভিযোগ ২৮ ও ২৯ জুলাই এবং ৩০ জুন অনুষ্ঠিত পরীক্ষাগুলো নিয়েও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওইসব দিনেও একাধিক প্রার্থী নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ভারী যানবাহনের লাইসেন্স সংগ্রহ করেছেন।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে অভিযোগ করা হয়েছে, আবু পলাশ যে সার্কেলেই দায়িত্ব পালন করেন, সেখানে একটি দালালচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে এই চক্রের আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হয় এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত অনিয়মের ক্ষেত্র তৈরি করা হয়।
আবু পলাশের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ উঠলেও অতীতেও তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক ছিল। ২০২৩ সালে শেরপুর সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে ঘুষ ছাড়া যোগ্য প্রার্থীদের উত্তীর্ণ না করার অভিযোগ সামনে আসে। একই বছরের ২ মে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রচারের পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাঁকে বিআরটিএর সদর কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন সার্কেলে পদায়নের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চে সিরাজগঞ্জ সার্কেলে বদলির আদেশ পেলেও সেখানে যোগদান করেননি। পরে ফরিদপুর সার্কেলে বদলির আদেশ হলেও একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সেই আদেশও বাতিল হয়।
সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১ মার্চ বিআরটিএর উপ-পরিচালক (প্রশাসন) তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে আবু পলাশকে ঢাকার সদর কার্যালয় থেকে ভোলা সার্কেলে পদায়ন করা হয়।
ভুক্তভোগী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে অদক্ষ ও অনভিজ্ঞ চালকদের হাতে ভারী যানবাহনের লাইসেন্স তুলে দেওয়া হলে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে প্রকৃত দক্ষ চালকরা বৈষম্যের শিকার হন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিএর একজন পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) বলেন, আবু পলাশের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ ও অনিয়মের তথ্য সামনে এলেও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি বারবার মাঠ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সার্কেল অফিসে পদায়ন পেয়েছেন। তাঁর মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।