মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
১০ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> সরকারের গুদামে সার আছে, সংকট বিতরণে

>> ফরিদপুর পৌরসভার উন্নয়নে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় আয়মান হোসেন অপু

>> ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ স্লিপার বাসের নিবন্ধন: বিআরটিএ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, ঝুঁকিতে জননিরাপত্তা

>> ওসি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর গাড়ি আটকে আড়াই কোটি টাকার মালামাল ছিনতাইয়ের অভিযোগ বিএনপি নেতা সম্রাটের বিরুদ্ধে

>> দিল্লিতে প্রবল বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত, ফ্লাইট চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন

>> অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাতিল: সঠিক পথে এগোনোর সুযোগ

>> অবশেষে অনুমতি পেলো ২০০৮ মডেলের ১১২ সিএনজি অটোরিকশার প্রতিস্থাপনের জন্য স্ক্রাপকরণ

>> নুসরাতের পরিবারের নিরাপত্তা জোরদার, রায় ঘিরে সতর্ক পুলিশ

>> জঙ্গল থেকে মায়ের লাশ উদ্ধারের পাঁচ দিন পর নদে মিলল শিশুসন্তানের মরদেহ

>> নিষেধাজ্ঞায় কি ইরানকে থামানো যাবে? ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’ নিয়ে নতুন বিশ্লেষণ

আপনি পড়ছেন : জাতীয়

সরকারের গুদামে সার আছে, সংকট বিতরণে


Rabeya ২৫ আগস্ট ২০২৬, সকাল ১১:২৭



সরকারের গুদামে সার আছে, সংকট বিতরণে


দেশে আমন মৌসুমে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের সময় চলছে। এ সময়ে কৃষকের সার চাহিদা বাড়লেও বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও আবার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে কৃষকদের।

তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশে সারের প্রকৃত ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও মজুত থাকার পরও মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে সার পৌঁছানো নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে ডিলাররা বরাদ্দ অনুযায়ী সার উত্তোলন করছেন না। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি তৈরি হয়ে কৃত্রিম সংকট দেখা দিচ্ছে। আবার কোথাও ভর্তুকির সার অন্য এলাকায় সরিয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি রাজশাহীর চার উপজেলায় চার ডিলারকে মোট ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। যশোরেও বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে দুই ডিলারকে জরিমানা করা হয়েছে।

বরাদ্দ আছে, কিন্তু উত্তোলন কম

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আগস্ট মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভিন্ন জেলায় প্রয়োজন অনুযায়ী সার বরাদ্দ দেওয়া হলেও ডিলারদের উত্তোলন তুলনামূলকভাবে কম।

ঢাকার গাজীপুরে আগস্টে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৮৭৬ মেট্রিক টন। ২০ আগস্ট পর্যন্ত কৃষক পর্যায়ে বিতরণ হয়েছে ৮০০ মেট্রিক টন। নরসিংদীতে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৫৫৩ মেট্রিক টন, যার মধ্যে বিতরণ হয়েছে ৯১৯ মেট্রিক টন।

ঢাকা বিভাগের আট জেলায় আগস্টে ইউরিয়া সারের মোট বরাদ্দ ছিল প্রায় ১৯ হাজার ৯১৮ মেট্রিক টন। ২০ আগস্ট পর্যন্ত উত্তোলন হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৯৬৫ মেট্রিক টন।

ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় বরাদ্দ ছিল ৩১ হাজার ৪২৫ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে ২০ আগস্ট পর্যন্ত উত্তোলন হয়েছে ৯ হাজার ৯৯২ মেট্রিক টন। সিলেট বিভাগের চার জেলায় ৯ হাজার ৫৪১ মেট্রিক টন বরাদ্দের বিপরীতে উত্তোলন হয়েছে ২ হাজার ৬৭৯ মেট্রিক টন।

সারা দেশে আগস্ট মাসে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ রয়েছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৪১২ মেট্রিক টন। ২০ আগস্ট পর্যন্ত কৃষক পর্যায়ে বিতরণ হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬১২ মেট্রিক টন।

মজুতেও ঘাটতি নেই

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের মজুতও চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট।

আগস্টে টিএসপি সারের চাহিদা প্রায় ৬৯ হাজার মেট্রিক টন হলেও মজুত রয়েছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার টন। ডিএপির মাসিক চাহিদা ৮৯ হাজার টন, বিপরীতে মজুত ৩ লাখ ২৭ হাজার টন। এমওপির চাহিদা ৭৮ হাজার টনের বিপরীতে মজুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার টন।

ইউরিয়ার বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৬ লাখ মেট্রিক টন। চলতি অর্থবছরের জন্য মজুত রয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন।

অর্থাৎ সরকারি পর্যায়ে সার না থাকার চেয়ে গুদাম থেকে কৃষকের হাতে সার পৌঁছানোই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

কৃষকদের অভিযোগ, কিছু অনুমোদিত ডিলার সরকারি ভর্তুকির সার নির্ধারিত মূল্যে না দিয়ে অন্যত্র সরিয়ে দিচ্ছেন। পরে সেই সার খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও স্বীকার করছেন, কিছু এলাকায় ডিলার ও মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতি কিংবা যোগসাজশের কারণে সংকট তৈরি হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তাকে বদলি এবং কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে প্রকৃত সারসংকট না বলে সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা বলা যায়। অনুমোদিত দোকানে সার না থাকলেও পাশের বাজারে বেশি দামে সার পাওয়া গেলে সেখানে সরবরাহ ব্যবস্থার অনিয়মের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

সংকট মোকাবিলায় ডিলারদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সার উত্তোলন বাধ্যতামূলক করা, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সার পরিবহন ও বিক্রি পর্যবেক্ষণ, অনিয়মের ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর শাস্তি এবং কৃষকদের অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমন মৌসুমে কৃষকের জন্য সার সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজন হয়। তাই গুদামে পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও যদি মাঠে সার না পৌঁছায়, তাহলে শুধু মজুতের হিসাব দিয়ে সংকটের সমাধান হবে না। সরকারি বরাদ্দ থেকে কৃষকের জমি পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।