রবিবার, আগস্ট ৯, ২০২৬
২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ, বরখাস্ত মহিউদ্দিনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

>> সড়ক দুর্ঘটনা থেকে নিরাপদ থাকতে যে দোয়া ও আমল করবেন

>> বিলাসী জীবন যখন সমাজের অবক্ষয় ডেকে আনে

>> রিজভীর সঙ্গে প্রেম-বিয়ের দাবি নিয়ে মুখ খুললেন শাবনূর

>> কেন ৮ আগস্ট মেসির জীবনে এত বেদনার, কী ঘটেছিল এই দিনে?

>> এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ কাল, যেভাবে জানা যাবে

>> কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

>> বিআরটিএতে দালালচক্রের দাপট? টাইগার আইটির আল-আমিনকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ

>> শাস্তির পরও মাদারীপুর বিআরটিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন করে অনিয়মের অভিযোগ

>> মেট্রোরেলে অগ্নিসংযোগের অভিযুক্তকে ছাত্রলীগে পদ দেওয়ার অভিযোগ

আপনি পড়ছেন : জাতীয়

ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ, বরখাস্ত মহিউদ্দিনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক


Rabeya ৯ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১২:৪৩



ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ, বরখাস্ত মহিউদ্দিনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সাময়িক বরখাস্তকৃত ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিনকে ঘিরে নতুন করে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি সিন্ডিকেট, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্ল্যাকমেইল এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে মহিউদ্দিন নতুন রাজনৈতিক পরিচয় সামনে এনে আবারও ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ঘনিষ্ঠ স্টাফ অফিসার হিসেবে পরিচিত ছিলেন মহিউদ্দিন। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশাসন) পদে দায়িত্ব পালন করা বিভিন্ন কর্মকর্তার স্টাফ অফিসার হিসেবে কাজ করার সময় তিনি একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে ওই সময় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ ফায়ার ফাইটার ও ড্রাইভার নিয়োগে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়েছিল এবং এসব নিয়োগে মহিউদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন—এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বরখাস্তের পরও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

নারী-সংক্রান্ত একটি ঘটনার পর মহিউদ্দিন সাময়িক বরখাস্ত হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে বরখাস্ত হওয়ার পরও তিনি বিভিন্নভাবে অধিদপ্তরের কার্যক্রম ও ভাবমূর্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মেধাকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণে আগের মতো অনিয়মের সুযোগ কমেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে একটি চক্র বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) ও বিভিন্ন পরিচালকের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার চালাচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। এই চক্রের নেপথ্যে মহিউদ্দিন রয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীরা আরও বলছেন, বর্তমানে তিনি নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এমনকি বগুড়ার সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ দাবি করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগের অভিযোগ

মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দিয়ে তার বাবা মোজাম্মেল হককে চেয়ারম্যান করে ‘ডিলিজেন্স অ্যাপিয়ারেন্স লিমিটেড’ নামে একটি তৈরি পোশাক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।

তবে এই ব্যবসা বা এর অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো স্বাধীন তদন্তের তথ্য এ প্রতিবেদনের হাতে নেই। ফলে অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

অভিযোগকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, ফায়ার সার্ভিস একটি জরুরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। তাই এর ভেতরে কোনো ধরনের অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য, চাঁদাবাজি কিংবা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

তাদের দাবি, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে, এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাময়িক বরখাস্তকৃত ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্টদের দায়ও নির্ধারণ করা প্রয়োজন।