সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত নতুন বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ। লোহিত সাগর, বাব আল-মানদেব প্রণালি ও এডেন উপসাগরে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করাই এই জোটের প্রধান উদ্দেশ্য। সম্প্রতি সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ জোট গঠনের ঘোষণা দেয়।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরব এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চালায়। পর্যালোচনার পর ঢাকা জোটে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
সৌদি আরবের তথ্য অনুযায়ী, জোট গঠনের আলোচনায় ৫১টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও অংশ নেয় ৪৩টি দেশ। প্রাথমিকভাবে ১৪টি দেশ নিয়ে জোটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, বাংলাদেশ, তুরস্ক, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও নাইজেরিয়া।
বাংলাদেশের পক্ষে জোট-সংক্রান্ত বৈঠকে অংশ নেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান।
কেন এই জোট?
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগর ব্যবহার করছে। তবে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর হামলার হুমকিতে সেই পথও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে জ্বালানি পরিবহন নিরাপদ রাখতে নতুন এই সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করা হয়েছে।
জোটের লক্ষ্য কী?
জোটের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—
লোহিত সাগর, বাব আল-মানদেব প্রণালি ও এডেন উপসাগরে নিরাপদ ও অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা।
ভারত মহাসাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা জোরদার করা।
সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য ও নিরাপত্তা তথ্য বিনিময়।
যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রয়োজন হলে সমন্বিত সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধি।
তবে সদস্য দেশগুলো কী ধরনের নৌ বা বিমান সক্ষমতা দেবে কিংবা জোটের সদর দপ্তর কোথায় হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মত
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ অতীতে কোনো সামরিক বা প্রতিরক্ষা জোটে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়নি। তাই এই নতুন জোটে অংশগ্রহণের ফলে দেশের পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, জোটে অংশগ্রহণ যেন কোনো আঞ্চলিক সংঘাতে বাংলাদেশকে জড়িয়ে না ফেলে, সে বিষয়েও কৌশলগত সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেররিজম কোয়ালিশন (আইএমসিটিসি)-এ বাংলাদেশ যোগ দিলেও সেখানে পূর্ণাঙ্গ সামরিক উপস্থিতি দেয়নি। নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের ভূমিকা কী হবে, তা সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।