গত ২১ জুলাই অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। শুক্রবার মোহনগঞ্জ পৌর এলাকার দৌলতপুরে কনের পরিবারের উদ্যোগে বিয়ের আনুষ্ঠানিক আয়োজন করা হয়। বিদেশি জামাইকে একনজর দেখতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।
নাজমিন আক্তার মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর পরিবার মূলত সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে মোহনগঞ্জে বসবাস করছে। অন্যদিকে ওয়্যাং সুলিন চীনের লুবেই প্রদেশের লুরাং শহরের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে ফেসবুকে তাঁদের পরিচয় হয়। নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ক গভীর হলে দুজন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। উভয় পরিবারের সম্মতি পাওয়ার পর গত ১৮ জুলাই ওয়্যাং সুলিন বাংলাদেশে আসেন। ঢাকায় পৌঁছানোর পর নাজমিনের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে গ্রহণ করেন এবং পরে মোহনগঞ্জে নিয়ে যান। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের বিয়ে নিবন্ধন করা হয়।
নাজমিনের বাবা মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে বিয়ে হওয়ায় তাঁরা শুরু থেকেই সতর্ক ছিলেন। চীনে থাকা বরের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি চীনা দূতাবাসের মাধ্যমেও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হয়েছে। সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার পরই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নুর উদ্দিন চীনে ফিরে যাবেন। সেখানে প্রয়োজনীয় ভিসা ও অন্যান্য কাগজপত্র সম্পন্ন করে পরে স্ত্রী নাজমিনকে চীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিদেশি বর আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকেই নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাতে এবং তাঁদের সঙ্গে ছবি তুলতে কনের বাড়িতে ভিড় করছেন।
স্থানীয়দের আশা, পারস্পরিক বিশ্বাস ও পারিবারিক সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক সুখী ও সফল দাম্পত্য জীবনে পরিণত হবে।