শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬
৭ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ৩৬ বছর বয়সেই থেমে গেল জনপ্রিয় তারকা হেইডেন প্যানেতিয়েরের জীবন

>> প্রথমবার আকাশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাটারিচালিত উড়োজাহাজ

>> এলএনজি কার্গো আসায় বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ, তবে সংকট কাটতে লাগবে আরও সময়

>> বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪: উচ্চমান সহকারী হারুন ইসলামকে ঘিরে ঘুষ ও সম্পদের অভিযোগ

>> সড়কে স্লিপার কোচ: অনুমোদন, নিরাপত্তা ও আমদানি নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

>> বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশ ও সমাজ গঠনে কাজ করছেন আয়মান হোসেন অপু

>> সিলেটে প্রদীপের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় সংখ্যালঘু পরিবার

>> ভয়াল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ২২তম বার্ষিকী, আজও অম্লান শহীদদের স্মৃতি

>> ধানমন্ডি ৩২ ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ: ড. ইউনূস-আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

>> রাজউকের পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

আপনি পড়ছেন : জাতীয়

এলএনজি কার্গো আসায় বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ, তবে সংকট কাটতে লাগবে আরও সময়


Rabeya ২২ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৪:১৪



এলএনজি কার্গো আসায় বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ, তবে সংকট কাটতে লাগবে আরও সময়

বঙ্গোপসাগরে নতুন একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কার্গো পৌঁছানোর পর গ্যাস সরবরাহ আবারও বাড়তে শুরু করেছে। কার্গোবাহী জাহাজটি মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে যুক্ত হওয়ার পর শনিবার বিকেল থেকে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুপুর ২টা থেকে এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে ঘণ্টায় নয়, বরং নির্ধারিত হারে প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। রাতের দিকে সরবরাহ আরও কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে এলএনজির নতুন কার্গো না থাকায় গত বুধবার বিকেলে এক্সিলারেটের গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। টানা কয়েক দিন পর নতুন কার্গো আসায় টার্মিনালে থাকা এলএনজি থেকে আবার সরবরাহ শুরু হয়েছে।

দেশে দীর্ঘদিন ধরে কমছে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন। এই ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহের জন্য রয়েছে এক্সিলারেট এনার্জি ও সামিটের দুটি ভাসমান টার্মিনাল।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৫ আগস্ট সেটি পুনরায় চালু হলেও পর্যাপ্ত এলএনজি না থাকায় পূর্ণ সক্ষমতায় সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, এক্সিলারেট বন্ধ থাকার সময় সামিটও বাড়তি সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করেছিল। তবে এলএনজি ঘাটতির কারণে তাদের সরবরাহেও মাঝে বাধা তৈরি হয়।

পেট্রোবাংলা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সর্বোচ্চ প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে এলএনজি থেকে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও গত এক মাসে তা সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম ছিল।

শনিবার দুপুরে এলএনজি থেকে প্রায় ৫৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বিকেলে তা বেড়ে প্রায় ৬৮ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। ফলে মোট গ্যাস সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ২৩০ কোটি ঘনফুট। রাতে এলএনজি সরবরাহ ৭৫ কোটি ঘনফুটে উঠলে মোট সরবরাহ প্রায় ২৩৭ কোটি ঘনফুট হতে পারে।

তবে সরবরাহ বাড়লেও আপাতত গ্যাস-সংকট পুরোপুরি দূর হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েক দিন সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে, কিন্তু চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকায় শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে গ্যাসের চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনা কয়েকটি এলএনজি কার্গো সময়মতো না আসায় সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। আগস্টে চারটি কার্গো আসার কথা থাকলেও সেগুলোর কোনোটি সময়মতো না আসায় টার্মিনাল প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।

নতুন করে দরপত্রের মাধ্যমে চলতি মাসের জন্য দুটি এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করা হয়েছে। এর একটি শনিবার দেশে পৌঁছেছে। আরেকটি কার্গো ২৬ থেকে ২৭ আগস্ট আসার কথা রয়েছে।

নতুন কার্গোগুলো নিয়মিতভাবে আসতে শুরু করলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে দেশের চাহিদা ও সরবরাহের বড় ব্যবধান থাকায় স্বল্পমেয়াদে গ্যাস-সংকট পুরোপুরি দূর হওয়ার সম্ভাবনা কম।