শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬
৭ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ৩৬ বছর বয়সেই থেমে গেল জনপ্রিয় তারকা হেইডেন প্যানেতিয়েরের জীবন

>> প্রথমবার আকাশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাটারিচালিত উড়োজাহাজ

>> এলএনজি কার্গো আসায় বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ, তবে সংকট কাটতে লাগবে আরও সময়

>> বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪: উচ্চমান সহকারী হারুন ইসলামকে ঘিরে ঘুষ ও সম্পদের অভিযোগ

>> সড়কে স্লিপার কোচ: অনুমোদন, নিরাপত্তা ও আমদানি নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

>> বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশ ও সমাজ গঠনে কাজ করছেন আয়মান হোসেন অপু

>> সিলেটে প্রদীপের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় সংখ্যালঘু পরিবার

>> ভয়াল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ২২তম বার্ষিকী, আজও অম্লান শহীদদের স্মৃতি

>> ধানমন্ডি ৩২ ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ: ড. ইউনূস-আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

>> রাজউকের পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

আপনি পড়ছেন : বিশ্ব

প্রথমবার আকাশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাটারিচালিত উড়োজাহাজ


Rabeya ২২ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৩৫



প্রথমবার আকাশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাটারিচালিত উড়োজাহাজ

বৈদ্যুতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে সুইডিশ প্রতিষ্ঠান হার্ট অ্যারোস্পেস। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজ ‘এক্স১’ প্রথমবারের মতো শুধু ব্যাটারির শক্তিতে আকাশে উড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পরীক্ষামূলক এই উড্ডয়নে উড়োজাহাজটি প্রায় ২৭ মিনিট আকাশে ছিল। এ সময় এটি সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ১০০ ফুট উচ্চতায় ওঠে। পুরো ফ্লাইটে উড়োজাহাজটির শক্তির উৎস ছিল ব্যাটারি।

এক্স১ মূলত যাত্রী পরিবহনের জন্য তৈরি করা হয়নি। ভবিষ্যতে হাইব্রিড-ইলেকট্রিক আঞ্চলিক উড়োজাহাজ তৈরির প্রযুক্তি পরীক্ষা করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। তাই এটিকে একটি ‘উড়ন্ত পরীক্ষাগার’ হিসেবে ব্যবহার করছে হার্ট অ্যারোস্পেস।

উড়োজাহাজটির ডানার বিস্তার প্রায় ১০৬ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ৭৬ ফুট। এর ওজন ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি। এতে ৩০টি আসনের ব্যবস্থা থাকলেও পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে ছিলেন শুধু একজন পাইলট।

হার্ট অ্যারোস্পেসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডার্স ফর্সলুন্ডের মতে, বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের কাছাকাছি আকারের একটি বিমানে বৈদ্যুতিক উড্ডয়ন প্রযুক্তির সক্ষমতা পরীক্ষা করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য। এক্স১ থেকে পাওয়া তথ্য ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ তৈরিতে ব্যবহার করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বাণিজ্যিক প্রকল্প হলো ‘ইএস-৩০’। এটি ৩০ আসনের একটি হাইব্রিড আঞ্চলিক উড়োজাহাজ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ সালের দিকে এটি বাণিজ্যিক যাত্রী পরিবহন শুরু করতে পারে। ইউনাইটেড এয়ারলাইনস, এয়ার কানাডা ও জেএসএক্সসহ কয়েকটি বিমান সংস্থা এই প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছে।

হাইব্রিড-ইলেকট্রিক উড়োজাহাজের অন্যতম লক্ষ্য হলো কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানো। হার্ট অ্যারোস্পেসের দাবি, একই আকারের প্রচলিত আঞ্চলিক উড়োজাহাজের তুলনায় ইএস-৩০ পরিচালনায় সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ কমতে পারে।

তবে প্রযুক্তিটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। ব্যাটারির ওজন, শক্তি ধারণক্ষমতা, দীর্ঘ দূরত্বে উড্ডয়ন এবং ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

হার্ট অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, এক্স১-এর একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে আনুমানিক পাঁচ ডলার। তবে এটিকে উড়োজাহাজটির প্রকৃত পরিচালন ব্যয়ের পূর্ণ চিত্র হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। কারণ পাইলট, রক্ষণাবেক্ষণ, বিমানবন্দর ফি, বিমা এবং অন্যান্য ব্যয় এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত নয়।

ফলে ভবিষ্যতে হাইব্রিড-ইলেকট্রিক উড়োজাহাজ বিমান সংস্থাগুলোর কতটা খরচ কমাতে পারবে এবং এর সুফল যাত্রীদের টিকিটের দামে কতটা প্রভাব ফেলবে—তা নির্ভর করবে প্রযুক্তিটির আরও উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ওপর।