হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ফি বা টোল আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এ জলপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যয়ের অংশ হিসেবে এই অর্থ নেওয়া হবে।
তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং ট্রাম্প প্রশাসনেরই কিছু কর্মকর্তার মতে, আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো একক দেশের টোল আরোপের অধিকার নেই। ফলে এই ঘোষণা আইনগত ও কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। সাম্প্রতিক সময়ে এ অঞ্চলকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার পর ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এই পরিকল্পনার কথা জানায়।
ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে এই জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। তাই এর ব্যয় বহনে জাহাজগুলোকে অবদান রাখতে হবে। পাশাপাশি তিনি ইরানের বন্দরগুলোতে আবারও অবরোধ আরোপের ইঙ্গিত দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর আগে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো দেশ একতরফাভাবে টোল বা ফি আদায় করতে পারে না। এ ধরনের ব্যবস্থা বিদ্যমান আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ কারণে ট্রাম্পের ঘোষণাকে তাঁর প্রশাসনের আগের অবস্থানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পণ্যের মূল্যের ওপর ২০ শতাংশ হারে ফি আরোপ করা হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। একটি বড় তেলবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কয়েক কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক জ্বালানির দাম এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের ঘোষণার সমালোচনা করে বলেন, যে যুক্তরাষ্ট্র আগে আন্তর্জাতিক জলপথে টোলের বিরোধিতা করেছে, এখন তারাই একই ধরনের প্রস্তাব দিচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, ২০ শতাংশ ফি অত্যন্ত বেশি; ইরান হলে তুলনামূলক "ন্যায্য" হার নির্ধারণ করত।
এখনও স্পষ্ট নয়, যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এই টোল কার্যকর করবে বা আদায়ের ব্যবস্থা করবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।