সম্প্রতি প্রকাশিত এক ব্লগে নাদেলা বলেন, উন্নত ফলাফল পেতে ব্যবহারকারীরা এআইকে যত বেশি তথ্য, নির্দেশনা ও প্রাসঙ্গিক উপাত্ত দেন, মডেল তত বেশি সেই প্রতিষ্ঠানের কার্যপদ্ধতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরণ এবং অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা অর্জন করে। দীর্ঘমেয়াদে এই শেখা তথ্য এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের জন্য মূল্যবান সম্পদে পরিণত হতে পারে।
নাদেলার ভাষায়, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা মূলত দুইভাবে মূল্য দিচ্ছেন—একদিকে অর্থ ব্যয় করছেন, অন্যদিকে নিজেদের মালিকানাধীন জ্ঞানও ভাগ করে নিচ্ছেন। তাঁর মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান যত উন্নত ও নির্ভুল ফলাফল চাইবে, তত বেশি অভ্যন্তরীণ তথ্য এআইয়ের সঙ্গে ভাগ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি তৈরি হয় যখন ব্যবহারকারীরা নতুন প্রম্পট লিখে, সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা জানায় বা এআইয়ের ভুল সংশোধন করে। এসব তথ্যের মাধ্যমে মডেল ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানের বহু বছরের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে শিখে নেয়।
নাদেলার মতে, এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান এমন একটি সম্পদ, যা প্রতিযোগী কোনো প্রতিষ্ঠান সহজে তৈরি করতে পারে না। কিন্তু অসতর্ক ব্যবহারের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেরাই সেই মূল্যবান তথ্য এআই ব্যবস্থার কাছে তুলে দিচ্ছে।
এআই ব্যবহারে গোপন তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। এর আগে প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগকারী জেসন ক্যালাকানিস এবং সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিরের প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স কার্পও একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিকসহ বিভিন্ন কোম্পানির এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে গিয়ে ধীরে ধীরে নিজেদের অভ্যন্তরীণ তথ্য, ব্যবসায়িক কৌশল এবং কাজের ধরন এসব মডেলের কাছে প্রকাশ করে ফেলছে, যা ভবিষ্যতে তথ্য নিরাপত্তা ও প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।