২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া কৌশিক গাঙ্গুলির ‘অর্ধাঙ্গিনী’ দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। এবার সেই গল্পের ধারাবাহিকতায় এসেছে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’।
নতুন ছবিতেও জয়া অভিনয় করেছেন মেঘনা চরিত্রে। তাঁর ভাষ্য, প্রথম সিনেমার পর সময় অনেকটাই এগিয়ে গেছে। মেঘনা এখন পরিবারে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে, আত্মবিশ্বাসী হয়েছে এবং জীবনে নতুন অনেক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। তবে নতুন ছবিতেও পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তাকে নতুনভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।
২০১৭ সালে ‘বিসর্জন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে কৌশিক গাঙ্গুলির সঙ্গে প্রথম কাজ করেন জয়া আহসান। এরপর ‘বিজয়া’, ‘অর্ধাঙ্গিনী’ এবং ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’—একাধিক সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছেন তারা।
এই সফল জুটির রহস্য সম্পর্কে জয়া বলেন, এর নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা তাঁর জানা নেই। তবে কৌশিক গাঙ্গুলি সম্পর্কনির্ভর গল্প বলায় অসাধারণ দক্ষ এবং তাঁর পরিচালনাশৈলীই হয়তো কাজগুলোকে বিশেষ করে তোলে।
গত বছরে ঢাকা ও কলকাতা মিলিয়ে ‘জয়া আর শারমিন’, ‘উৎসব’, ‘তাণ্ডব’, ‘ডিয়ার মা’ এবং ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’—এমন বৈচিত্র্যময় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া। অধিকাংশ ছবিতেই তাঁকে দেখা গেছে মনস্তাত্ত্বিক বা আবেগঘন জটিল চরিত্রে।
তবে এবার কিছুটা ভিন্ন পথে হাঁটতে চান তিনি। জয়ার মতে, একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে সব ধরনের চরিত্রে কাজ করার ইচ্ছা তাঁর রয়েছে। তাই এবার অপেক্ষাকৃত হালকা, আনন্দঘন ও স্বস্তিদায়ক চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ খুঁজছেন। এমন কিছু কাজ নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
চরকি অ্যাওয়ার্ডে পুরস্কার পাওয়া ‘বেসুরা’ পর্বে জয়া একটি রহস্যময় ডাইনি চরিত্রে অভিনয় করেন। পর্বটির গল্পে তাঁর উপস্থিতি ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ।
জয়া বলেন, ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করতে তিনি সবসময়ই আগ্রহী। নুহাশ হুমায়ূন ও গুলতেকিন খানের লেখা গল্পটি তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল। ছোট চরিত্র হলেও সেটির প্রভাব ছিল গভীর, আর সেই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার পাওয়া তাঁর জন্য আনন্দের।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বহু প্রতিষ্ঠিত পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন জয়া আহসান। পাশাপাশি নতুন নির্মাতাদের সঙ্গেও কাজ করতে তাঁর আগ্রহ বরাবরের।
তিনি জানান, প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋতুপর্ণ ঘোষকে তিনি এখনও গভীরভাবে মিস করেন। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। তাঁর আশা, বাংলাদেশ ও ভারতের তরুণ নির্মাতারা নতুন গল্প ও চরিত্র নিয়ে তাঁর কাছে আসবেন।
জয়ার মতে, গত বছর একের পর এক সিনেমার মুক্তি এবং দুই বাংলায় প্রচারণার ব্যস্ততা ছিল বেশ ক্লান্তিকর। তাই চলতি বছরে তিনি তুলনামূলক ধীরগতিতে কাজ করছেন।
যদিও কয়েকটি নতুন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার আগে সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে রাজি নন এই অভিনেত্রী।