শিশুশিল্পী হিসেবে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে অভিনয়ে পা রাখেন হেইডেন। ১৯৯৪ সালে ‘ওয়ান লাইফ টু লাইভ’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর টেলিভিশন ক্যারিয়ার শুরু হয়। এরপর ‘গাইডিং লাইট’সহ বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অভিনয় করেন তিনি।
২০০০ সালে ‘রিমেম্বার দ্য টাইটানস’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় নিজের অবস্থান তৈরি করেন হেইডেন। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০০৬ সালে ‘হিরোজ’ সিরিজে অভিনয়ের মাধ্যমে। সেখানে ক্লেয়ার বেনেট চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তিনি।
পরবর্তী সময়ে ‘ন্যাশভিল’ সিরিজে জুলিয়েট বার্নস চরিত্রে অভিনয় করেন হেইডেন। এই চরিত্রের জন্য তিনি দুইবার গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। সিরিজটিতে দীর্ঘ সময় অভিনয় করে টেলিভিশন দর্শকদের কাছে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি।
সিনেমার দর্শকদের কাছেও হেইডেনের পরিচিতি ছিল বেশ শক্তিশালী। বিশেষ করে ‘স্ক্রিম ৪’-এ কিরবি রিড চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পান তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর ‘স্ক্রিম ৬’-এ একই চরিত্রে আবারও পর্দায় ফেরেন হেইডেন।
এর বাইরে ‘আইস প্রিন্সেস’, ‘ব্রিং ইট অন: অল অর নাথিং’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনায় অভিনয় করেছেন তিনি। ছোটবেলায় ‘অ্যালি ম্যাকবিল’ ও ‘ম্যালকম ইন দ্য মিডল’-এর মতো জনপ্রিয় অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা গেছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি জীবনের নানা কঠিন অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রকাশ্যে কথা বলেছেন হেইডেন। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনী ‘দিস ইজ মি: আ রেকনিং’-এ শৈশবের তারকাখ্যাতি, পারিবারিক সম্পর্ক, মানসিক স্বাস্থ্য এবং ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন সংকটের কথা তুলে ধরেন তিনি।
দীর্ঘদিন অ্যালকোহল ও মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই করার কথাও হেইডেন প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও তিনি কথা বলেছেন। তাঁর জীবনসংগ্রামের এসব অভিজ্ঞতা আত্মজীবনীতেও উঠে এসেছে।
২০২৩ সালে মাত্র ২৮ বছর বয়সে মারা যান হেইডেনের ছোট ভাই জ্যানসেন প্যানেতিয়ের। ভাইয়ের মৃত্যু তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
ব্যক্তিজীবনে সাবেক বক্সার ভ্লাদিমির ক্লিৎসকোর সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন হেইডেন। তাঁদের একটি মেয়ে রয়েছে, নাম কায়া।
হেইডেন প্যানেতিয়েরের আকস্মিক মৃত্যুতে হলিউডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশুশিল্পী হিসেবে শুরু করে ‘হিরোজ’-এর ক্লেয়ার বেনেট এবং ‘স্ক্রিম’-এর কিরবি রিডের মতো চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি যে পরিচিতি তৈরি করেছিলেন, সেই কাজের জন্যই দর্শকদের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন এই অভিনেত্রী।