ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইরানের কট্টরপন্থী শাসনব্যবস্থাকে চাপে ফেলা কঠিন। তাঁদের আশঙ্কা, তেহরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে পুরোপুরি সরিয়ে আনতে শেষ পর্যন্ত দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে।
তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলী আকবর দারে ইনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি এখন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়ে ইরানকে দুর্বল করার কৌশল নিয়েছেন।
আল-জাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যে দারে ইনি এই কৌশলকে ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সামরিক হামলার আগে প্রতিপক্ষকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে এমনভাবে চাপে রাখা হয়, যাতে ধীরে ধীরে তার সক্ষমতা কমে আসে।
অ্যানাকোন্ডা যেভাবে শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে তার শ্বাসরোধ করে, এই কৌশলের নামকরণও সেখান থেকেই—বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে দারে ইনি মনে করেন, নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানকে দীর্ঘমেয়াদে নত করা সহজ হবে না। কারণ, অতীতেও তেহরান দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে টিকে থাকার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
তাঁর মতে, গত কয়েক মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারেনি। ফলে ওয়াশিংটন এমন এক পরিস্থিতিতে পড়েছে, যেখানে একদিকে চাপ বাড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথও সহজ হচ্ছে না।
তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়বে কি না, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।