গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. কামরুল কাদেরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, বিতর্কিত বদলি-পদায়ন এবং অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে তিনি একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি-পদায়নের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সুবিধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। কামরুল কাদেরের বিরুদ্ধে ওই প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় একই এলাকায় দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়ায় তাঁর প্রভাব আরও বেড়েছে। ফলে বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা নিয়ে অধিদপ্তরের ভেতরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে বদলি-পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা নথি প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রাম ই-এম সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে একই ধরনের কাজের বিল একাধিকবার প্রস্তুত বা পরিশোধের চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
তাদের আরও অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের কাজের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরও বিষয়গুলো যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি।
কামরুল কাদেরের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্ব পায়নি।
এমনকি বিভিন্ন তদন্ত বা অভিযোগের পরও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল থেকেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকা সম্পদের মালিকানা রয়েছে কামরুল কাদের ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে।
এর মধ্যে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি মূল্যবান ফ্ল্যাট এবং ঢাকার বাইরে জমি ও অন্যান্য সম্পদের তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছে। এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস ও ক্রয়মূল্য নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন সম্পদ রয়েছে, যার সঙ্গে তাঁর সরকারি চাকরি থেকে অর্জিত আয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা দরকার।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
তাদের মতে, বদলি-পদায়ন, সরকারি কাজের বিল, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সম্পদ অর্জন—প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্পষ্ট হবে।
তবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কোনো কর্মকর্তাকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে চূড়ান্তভাবে আখ্যায়িত করা যায় না। সংশ্লিষ্ট নথি, আর্থিক হিসাব ও সরকারি রেকর্ড পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করাই হবে নিরপেক্ষ পদ্ধতি।
উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. কামরুল কাদেরের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে তবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।