শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে ১০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

>> বিয়ের জন্য পাত্রী দেখে ফিরছিলেন যুবক, সড়কে মিলল রক্তাক্ত দেহ

>> ফৌজদারি অভিযোগের পরও পদোন্নতি, যশোর বিআরটিএ কর্মকর্তাকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ

>> পরীক্ষার সময় বই খুলে লিখছিলেন, ভিডিও করায় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা

>> জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান

>> ইমরান খানের মুক্তির দাবি করে কেঁদে বললেন মিয়াঁদাদ, ‘ইমরান সৎ মানুষ’

>> জ্বালানির অভাবে চলে না জেনারেটর, বিদ্যুৎ গেলে হাতপাখাই ভরসা

>> সচিবালয়ে সাপ হত্যা: কী বলছে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন

>> আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপে বিধিনিষেধ জারি করল যুক্তরাষ্ট্র

>> ঢাকায় ছিনতাইয়ের সময় ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

আপনি পড়ছেন : এক্সক্লুসিভ

ফৌজদারি অভিযোগের পরও পদোন্নতি, যশোর বিআরটিএ কর্মকর্তাকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ


২৯ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১:৩৩



ফৌজদারি অভিযোগের পরও পদোন্নতি, যশোর বিআরটিএ কর্মকর্তাকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ করতে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান নানান উদ্যোগ চালালেও, আইনের ফাঁকফোকর ও সফটওয়্যারের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে পকেট ভারী করছেন একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা। এবার বিআরটিএর যশোর সার্কেলের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. নাহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে সরকারের লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। অবাক করার বিষয় হলো, বিগত ৫ মাসে এই সার্কেলে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও গত ১৬ জুন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সচিবালয়ের এক স্মারকে তাকে সহকারী পরিচালক (সাধারণ) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর ‘খানা জরিপ ২০২৫’ অনুযায়ী, বিআরটিএতে দুর্নীতির হার ৯৬.০% এবং ঘুষের হার ৬০.৫%। সেবা খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে দ্বিতীয় স্থানে থাকা এই সংস্থা কীভাবে রাজস্ব লোপাট হচ্ছে, তার একটি বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে যশোর সার্কেলের অনুসন্ধানে।


যশোর সার্কেলের এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী কম্পিউটার অপারেটর রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, রফিক বিআরটিএর কোনো বৈধ কর্মচারী নন। তা সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে তিনি এই সার্কেলের কম্পিউটার অপারেটরের কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন। অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর আইডি ও পাসওয়ার্ড থাকে এই রফিকের কাছে। অনলাইন সংক্রান্ত সব কাজ এবং ঘুষের লেনদেন মূলত এই রফিকের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। প্রতি ফাইলে ৫ হাজার টাকা করে ঘুষের বিনিময়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ফাইল ছাড়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।


ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর ‘খানা জরিপ ২০২৫’ অনুযায়ী, বিআরটিএতে দুর্নীতির হার ৯৬.০% এবং ঘুষের হার ৬০.৫%। সেবা খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে দ্বিতীয় স্থানে থাকা এই সংস্থা কীভাবে রাজস্ব লোপাট হচ্ছে, তার একটি বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে যশোর সার্কেলের অনুসন্ধানে।


যশোর সার্কেলের এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী কম্পিউটার অপারেটর রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, রফিক বিআরটিএর কোনো বৈধ কর্মচারী নন। তা সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে তিনি এই সার্কেলের কম্পিউটার অপারেটরের কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন। অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর আইডি ও পাসওয়ার্ড থাকে এই রফিকের কাছে। অনলাইন সংক্রান্ত সব কাজ এবং ঘুষের লেনদেন মূলত এই রফিকের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। প্রতি ফাইলে ৫ হাজার টাকা করে ঘুষের বিনিময়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ফাইল ছাড়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।


২০২৫ সাল থেকে সরকার মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ফি বৃদ্ধি করে ১১,৯৬৪ টাকা নির্ধারণ করে (যার মধ্যে ডিজিটাল নম্বর প্লেট, ফিট রেজিস্ট্রেশন, সার্টিফিকেট ফি, ট্যাক্স টোকেন, ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট ফান্ড এবং ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট ফি অন্তর্ভুক্ত)। এর পূর্বে এই ফি ছিল ১০,৫৯৫ টাকা।


নাহিদুজ্জামান ও রফিকের সিন্ডিকেটে সফটওয়্যারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ২০২৫ সালের পূর্বের জমাকৃত ১০,৫৯৫ টাকার ফি দিয়ে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নতুন মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন দিয়েছেন। সরকারের নির্ধারিত ফি থেকে ১,৩৬৯ টাকা করে রাজস্ব ফাঁকি মোটরসাইকেলকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারের প্রায় ১,৬১,২০০ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।


প্রমাণিত ২৫টি মোটরসাইকেলের নম্বর:


যশোর-ল-৭৫-৫৪৫৪, যশোর-ল-৭৫-৩৬৮০, যশোর-ল-৭৫-৩৬৭৬, যশোর-ল-৭৫-৬৮৫১, যশোর-ল-৭৫-৫৮০১, যশোর-ল-৭৫-৫৯৫০, যশোর-ল-৭৫-৫৫৫৮, যশোর-ল-৭৫-৩১২ packo, যশোর-ল-৭৫-৩৮৭১, যশোর-ল-৭৫-৩১৮৪, যশোর-ল-৭৫-৪৩৫০, যশোর-ল-৭৫-can৮০৭, যশোর-ল-৭৫-৪৮৬২, যশোর-ল-৭৫-৪৮৫৪, যশোর-ল-৭৫-৩৬৩২, যশোর-ল-৭৫-৩৫৩০, যশোর-ল-৭৫-৫৯১৬, যশোর-ল-৭৫-৫৯৫৯, যশোর-ল-৭৫-৫৯৭৯, যশোর-ল-৭৫-৪১৫০, যশোর-ল-৭৫-৩৪৮০, যশোর-ল-৭৫-৩৫৮৫।


সবচেয়ে বড় জালিয়াতি করা হয়েছে মোটরসাইকেলের মূল মালিকানা পরিবর্তনের ফি ফাঁকি দিয়ে। একটি নির্দিষ্ট চ্যাসিসের (যেমন: Chassis no- MD624HC16H2K86252) বিপরীতে ২০১৮ সালে ব্যাংক ফি জমা দিয়েছিলেন মো. বেলাল হোসেন। কিন্তু ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর সেই চ্যাসিসের গাড়িটি গোলাম রাসেল নামে অন্য এক ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রেশন (যশোর-ল-৭৫-৩০৫০) দেওয়া হয়।


আইন অনুযায়ী, ফি জমাদানকারী ও আবেদনকারী এক না হলে প্রথমে প্রথম ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রেশন করে মালিকানা পরিবর্তন করতে হবে, অথবা প্রয়োজনীয় হলফনামা ও ফি জমা নিয়ে ২য় ব্যক্তির নামে সরাসরি নিবন্ধন দিতে হবে। বিআরটিএর তথ্যমতে, এই মালিকানা পরিবর্তনের জন্য ট্রান্সফার ফি, পরিদর্শন ফি, ভ্যাট, স্মার্টকার্ড ও ডিজিটাল সার্টিফিকেট ফি বাবদ মোট ৪,৪৮০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।


নাহিদুজ্জামান ও রফিকের সিন্ডিকেটে ৫ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে কোনো প্রকার মালিকানা পরিবর্তন ফি ও ৩টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প (মূল্য ৬০০ টাকা) ছাড়াই সরাসরি ভিন্ন ব্যক্তির নামে মোট ৫০টি মোটরসাইকেলের নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে।


মালিকানা ফি বাবদ রাজস্ব ক্ষতি: ৫০টি × ৪,৪৮০ টাকা = ২,২৪,০০০ টাকা


স্ট্যাম্প বাবদ রাজস্ব ক্ষতি: ৫০টি × ৬০০ টাকা = ৩০,০০০ টাকা


মোট রাজস্ব ক্ষতি (এই খাতে): ২,৫৪,০০০ টাকা।


চিহ্নিত ৫০টি জালিয়াতিপূর্ণ রেজিস্ট্রেশন নম্বর:


যশোর-ল-৭৫-৫১৫৭, যশোর-ল-৭৫-৩৬০০, যশোর-ল-৭৫-৫৫৯৭, যশোর-ল-৭৫-৩৬৭৮, যশোর-ল-৭৫-০৪৬৮, যশোর-ল-৭৫-৪০৫৩, যশোর-ল-৭৫-৬৫৪০, যশোর-ল-৭৫-৩০০৫, যশোর-ল-৭৫-৩৭০০, যশোর-ল-৭৫-৩৩৬৮, যশোর-ল-৭৫-৩৪৬৮, যশোর-ল-৭৫-৩৪৬৯, যশোর-ল-৭৫-৩৭৪৯, যশোর-ল-৭৫-৩১০১, যশোর-ল-৭৫-৩১৬২, যশোর-ল-৭৫-৩০২৬, যশোর-ল-৭৫-৩২২১, যশোর-ল-৭৫-৩৭২৫, যশোর-ল-৭৫-৩৭৪৮, যশোর-ল-৭৫-৩২৫৯, যশোর-ল-৭৫-৫৫৯১, যশোর-ল-৭৫-৫৬৬৮, যশোর-ল-৭৫-৫৭৫০, যশোর-ল-৭৫-৫৬৫৭, যশোর-ল-৭৫-৫৫৬৮, যশোর-ল-৭৫-৫৫১৮, যশোর-ল-৭৫-৫৫৫৯, যশোর-ল-৭৫-৫৫৭৯, যশোর-ল-৭৫-৫৫৮৮, যশোর-ল-৭৫-৫৫১৮, যশোর-ল-৭৫-৫৫৯৯, যশোর-ল-৭৫-৫৯৫৯, যশোর-ল-৭৫-৫৯৭৯, যশোর-ল-৭৫-৫৫৫৮, যশোর-ল-৭৫-৫৫১৯, যশোর-ল-৭৫-৫৭৫৯, যশোর-ল-৭৫-৫৮৮৮, যশোর-ল-৭৫-৫৯১৮, যশোর-ল-৭৫-৫৯৫৯, যশোর-ল-৭৫-৫৯৭৯, যশোর-ল-৭৫-৪১৫০, যশোর-ল-৭৫-৪৮৪০, যশোর-ল-৭৫-৩৬৮৯।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএর একজন পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) জানান, আবেদন গ্রহণের দিন নির্ধারিত সরকারি ফি এবং নামের অমিল থাকলে মালিকানা বদল ফি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এর ব্যতিক্রম সরাসরি ‘সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ’ হিসেবে গণ্য হবে।


সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮: এই জালিয়াতি ‘Negligence in official duty’ বা সরকারি দায়িত্বে অবহেলা ও অসদাচরণ। এর শাস্তি হিসেবে সাময়িক বরখাস্ত, বিভাগীয় মামলা, ইনক্রিমেন্ট স্থগিত, পদাবনতি কিংবা চাকরিচ্যুতিও হতে পারে।


দুদক আইন ২০০৪ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭: ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা তৃতীয়কে অবৈধ সুবিধা দেওয়া এবং সরকারি ফিন্যান্সিয়াল গেইন (GFR) লঙ্ঘন করা এটি ফৌজদারি অপরাধ। তদন্ত সাপেক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের মামলা দায়ের করতে পারে।


ছাত্র-জনতার ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ের মুখে বিআরটিএর এমন বেপরোয়া দুর্নীতি ও অভিযুক্ত কর্মকর্তার উর্ধ্বতন পদোন্নতি সংস্থাটির ভেতরের গভীর অনিয়মেরই বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।