নেপাল–তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হিমবাহধস ও বন্যার পর বিদেশি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলকে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। এর আগে বিভিন্ন দেশের সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল দেশটি।
দুর্যোগের পর ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষ করে যেসব দেশের নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, সেসব দেশ নেপালকে তাদের উদ্ধারকারী দল পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আসছিল।
নেপালের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের পর নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমিতসংখ্যক বিদেশি বিশেষজ্ঞকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভারত, চীন, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াকে বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি দল পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এসব দলের সদস্যদের টানেল থেকে উদ্ধারকাজ, ডিএনএ পরীক্ষা ও ফরেনসিক কার্যক্রমে অভিজ্ঞতা রয়েছে।
নেপাল–তিব্বত সীমান্তে হিমবাহধসের পর ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে ভয়াবহ ঢল নেমে আসে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে দেশটিতে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ৯২৪ জন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন। মোট ৩১টি দেশের নাগরিক এই দুর্যোগে নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ভারত একটি উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসক দল এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্য পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়াও তাদের জরুরি উদ্ধারকারী দলকে নেপালে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছে। দেশটির কয়েকজন নাগরিকের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী বিদেশি সহায়তা নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য প্রাথমিকভাবে কয়েকটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী সহায়তা চাওয়া হচ্ছে।