নেপালের নুয়াকোট জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা কল্পনা মল্লা জানান, প্রাণ বাঁচাতে তিনি ও তাঁর ছেলে একটি বাড়ির ছাদে উঠতে পারলেও চোখের সামনে পরিবারের সদস্যদের বন্যার স্রোতে ভেসে যেতে দেখেছেন।
বুধবার নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া, নুয়াকোটসহ কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে রাস্তাঘাট, সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কল্পনা মল্লার ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বাবা, মা, বোন ও বোনের সন্তানরা বন্যার স্রোতে ভেসে গেছেন। তিনি বলেন, বন্যা তাঁদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। তাঁর ছেলে সুগম মাল্লাও জানান, পরিবারের কয়েকজনের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বন্যায় গবাদিপশু ও কৃষিজমিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। একজন নারী জানান, তাঁর মহিষসহ গবাদিপশু ভেসে গেছে এবং জমির ফসল ও বীজ নষ্ট হয়েছে।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বন্যা ও ভূমিধসে ১৬২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আরও পাঁচ শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
এদিকে তিব্বতেও একই দুর্যোগে তিনজনের মৃত্যু এবং শত শত মানুষের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আকস্মিক এই বন্যা ও ভূমিধসের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তবে নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্পের পরপরই দুর্যোগের সূত্রপাত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত অঞ্চলে অনুভূত ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪।