রাজধানীর উত্তরায় সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারীর বিরুদ্ধে তাঁর ভাইয়ের ভয়ভীতি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ৪৪ বছর বয়সী ওই নারী জানিয়েছেন, মা-বাবা কেউ জীবিত না থাকায় আপন ভাইই তাঁর একমাত্র নিকটজন। কিন্তু সম্পত্তির ভাগ চাওয়াকে কেন্দ্র করে ভাইয়ের আচরণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
ওই নারীর দাবি, উত্তরায় তাঁদের মায়ের কেনা প্রায় ১ হাজার ২০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট দুই ভাই-বোনের মধ্যে সমান ভাগে দেওয়ার কথা ছিল। তবে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিস্থিতি খারাপ হয়। একপর্যায়ে ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে বাধ্য হন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৬ জুন রাতে তাঁর ভাই উত্তরার বাসায় গিয়ে আইনি নোটিশ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হলে তাঁকে মারধর, গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়। পরে ১ জুলাই তিনি উত্তরা পশ্চিম থানায় জিডি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে বোনের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা থাকার সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। তবে ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।
অন্যদিকে ওই নারীর ভাই তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি বোনকে কোনো ধরনের হুমকি দেননি। বরং বোনের দুর্ব্যবহারের কারণে কিছুদিন ধরে তিনি উত্তরার ফ্ল্যাটে যাচ্ছেন না।
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে শুধু এই নারীই নন, আরও কয়েকজন নারী তাঁদের ভাইদের বিরুদ্ধে বঞ্চনা, হেনস্তা ও পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ করেছেন। কারও অভিযোগ সম্পত্তির ভাগ নিয়ে, আবার কারও অভিযোগ মা-বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক সম্পদ থেকে তাঁদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক সহিংসতা শুধু স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নির্যাতনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবারের অন্য সদস্যের হাতে নারী ও শিশুর শারীরিক, মানসিক কিংবা আর্থিক নির্যাতনও এর আওতায় পড়তে পারে।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে পারিবারিক সম্পর্কের কারণে কোনো নারী তাঁর বৈধ সম্পদ বা অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে কিংবা সেই অধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া হলে সেটিও পারিবারিক সহিংসতার আওতায় বিবেচিত হতে পারে।
অভিযোগকারী ওই নারীর বক্তব্য, তাঁর লড়াই শুধু একটি ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে নয়। আপনজনের কাছেও একজন নারীর নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং নিজের ন্যায্য অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ থাকা উচিত।