নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নেপাল ও তিব্বতে এখনো প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৮০০ জনের বেশি বিদেশি পর্যটক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
নেপালের বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও আশপাশের কয়েকটি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল স্রোত ও ভূমিধসে বহু ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীর পানির তোড়ে অনেক বাড়িঘর ভেসে গেছে এবং কোথাও কোথাও কাদামাটির নিচে স্থাপনা চাপা পড়েছে।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অনেকের মরদেহ ভাটির দিকে বিভিন্ন জেলায় উদ্ধার করা হয়েছে। চিতওয়ান জেলায় ৬৪ জন এবং ইস্ট নওয়ালপরাসি জেলায় আরও ২৬ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে ২৮ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
দুর্যোগে বিদেশি পর্যটকদের নিখোঁজ হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নেপালে অন্তত ৫৪ জন মার্কিন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র নেপালকে জরুরি সহায়তা হিসেবে ৫ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ জানিয়েছেন, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ১০৫ জন নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে কলকাতার ৩২ জন রয়েছেন।
এদিকে দুর্যোগের কারণে নেপালের বিদ্যুৎ খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
নেপাল সেনাবাহিনী দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত সদস্য মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। চীন-নেপালের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের অন্যতম প্রধান সীমান্তপথ গিরংও এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।