বাংলাদেশ সচিবালয়ে তিনটি সাপের বাচ্চাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের বিষয়টি সামনে এসেছে। সাপ–গবেষক আবু সাইদের মতে, ভিডিও দেখে সাপগুলোকে পাতি নেকড়ে সাপ বলে মনে হয়েছে, যা নির্বিষ প্রজাতির।
বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাপগুলোকে না মেরে উদ্ধারকারীদের খবর দিয়ে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া যেত। তাঁদের মতে, সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থানে এমন ঘটনা বন্য প্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতার জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
বর্তমানে ‘বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী তফসিলভুক্ত বন্য প্রাণী শিকার, ধরা, আহত করা বা হত্যা করা নিষিদ্ধ। এসব কাজ আইন লঙ্ঘন হিসেবে দণ্ডনীয়।
আইনের তফসিল-২-এ পাতি নেকড়ে সাপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ প্রজাতির সাপ হত্যার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। একই অপরাধ পুনরায় করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড অথবা দুই লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ রেজা খান বলেছেন, কোথাও সাপ দেখা গেলে প্রথমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সঠিক ব্যক্তি বা সংগঠনকে খবর দেওয়া উচিত। তাঁর মতে, ঢাকায় সাপ উদ্ধারের জন্য কাজ করা সংগঠন রয়েছে; তাদের খবর দিলে সাপগুলো উদ্ধার করা সম্ভব ছিল।
এদিকে বন অধিদপ্তর জানিয়েছে, সচিবালয়ে সাপের বাচ্চা পাওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো খবর দেওয়া হয়নি। পরে গণমাধ্যমের খবরের মাধ্যমে তারা বিষয়টি জানতে পারে।
সাপগুলো কীভাবে সচিবালয়ের ১৮ তলায় উঠল, তার নিশ্চিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারীর ধারণা, ভবনের পাশে থাকা কোনো গাছ ব্যবহার করে সাপগুলো ওপরে উঠে থাকতে পারে।