যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া উদ্যোগে বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়েছে তাঁর প্রশাসন। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ করে বিতর্কিত বিধিনিষেধ কার্যকর করার পথ আপাতত আটকে দিয়েছেন।
সোমবার দেওয়া আদেশে সর্বোচ্চ আদালত আগের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের করা আবেদন গ্রহণ করেননি। ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোটের নিয়ম পরিবর্তনের পরিকল্পনা আপাতত বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।
সুপ্রিম কোর্টের নয় সদস্যের বেঞ্চে থাকা ছয়জন রক্ষণশীল বিচারপতির মধ্যে দুজন এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়ে বিচারপতি ব্রেট কাভানা বলেন, দীর্ঘমেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনাটি আইনগতভাবে বৈধ হতে পারে। তবে আসন্ন নির্বাচনের আগে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিয়মটি বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় নেই।
ইতোমধ্যে নর্থ ক্যারোলাইনাসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের কাছে ডাকযোগে ভোটের ব্যালট পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এর আগে গত মার্চে ডাকযোগে ভোটের সুযোগ সীমিত করার লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি ডাকযোগে ভোটে জালিয়াতির ঝুঁকি রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাহী আদেশ জারির পরই এর বিরুদ্ধে একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জ শুরু হয়। ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে।
মামলাকারীদের যুক্তি, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যগুলোর ব্যাপক সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে সেই ক্ষমতার ওপর এভাবে হস্তক্ষেপ করা যায় না।