বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছে না বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি

>> প্রায় নগ্ন হয়ে বিজ্ঞাপনে সিডনি সুইনি, ফের শুরু বিতর্ক

>> মেঘনার তীরে পাড়ধসে নদীতে নিখোঁজ দুই বন্ধু

>> গণিত, বিজ্ঞান ও পড়ার দক্ষতায় বিশ্বসেরা সিঙ্গাপুর, শীর্ষে এশিয়ার দাপট

>> এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনায় ট্রাকে আটকা চালক, জীবিত উদ্ধার

>> চীনকে ঠেকাতে বড় যুদ্ধজাহাজ নয়, ছোট নৌবহরের দিকে তাইওয়ান

>> ধানমন্ডির পর মহাখালীতেও আগুন, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ৩ ইউনিট

>> ভোট ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কা, পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ

>> তেলের দাম আবার ১০০ ডলারের ওপরে, সামনে আরও বাড়ার আশঙ্কা

>> শৈশবে স্বপ্নই ছিল না, সেই রিবাকিনাই এখন বিশ্ব টেনিসের শীর্ষে

আপনি পড়ছেন : বিশ্ব

চীনকে ঠেকাতে বড় যুদ্ধজাহাজ নয়, ছোট নৌবহরের দিকে তাইওয়ান


Rabeya ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:০১



চীনকে ঠেকাতে বড় যুদ্ধজাহাজ নয়, ছোট নৌবহরের দিকে তাইওয়ান


চীনের সম্ভাব্য সামরিক হামলা মোকাবিলায় নিজেদের নৌবাহিনীর কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে তাইওয়ানের জন্য। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, অত্যাধুনিক ডেস্ট্রয়ার ও ফ্রিগেটের মতো বড় যুদ্ধজাহাজের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বদলে ছোট, দ্রুতগতির ও সহজে শনাক্ত করা কঠিন এমন নৌযানের সংখ্যা বাড়ানো বেশি কার্যকর হতে পারে।

চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে থাকা তাইওয়ান প্রণালি সম্ভাব্য উভচর হামলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনা বাহিনী বড় জাহাজ ব্যবহার করে ওই জলপথ পেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে তা ঠেকাতে তাইওয়ানের নৌবাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

তবে আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তির পরিবর্তনের কারণে বড় যুদ্ধজাহাজগুলো এখন আগের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। চীন গোয়েন্দা নজরদারি, ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। ফলে বড় জাহাজ শনাক্ত করে সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

এ অবস্থায় তাইওয়ানের জন্য ছোট আকারের সারফেস কমব্যাট্যান্ট বা স্টেলথ কর্ভেটের বহর গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার টনের এসব জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মতো অস্ত্র ও প্রযুক্তি যুক্ত করা সম্ভব। ছোট আকারের কারণে এগুলো ছড়িয়ে থেকে কাজ করতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবে।

বড় যুদ্ধজাহাজের একটি সমস্যা হলো, এগুলো ধ্বংস হলে সামরিক ক্ষতির পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবও অনেক বেশি হতে পারে। বিপরীতে ছোট নৌযান তুলনামূলক কম ব্যয়ে বেশি সংখ্যায় মোতায়েন করা যায়। একটি জাহাজ হারালেও পুরো নৌবহরের ওপর তার প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকতে পারে।

ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগর অভিযান থেকেও তাইওয়ান গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিতে পারে। রাশিয়ার তুলনায় দুর্বল নৌক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেন ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, চালকবিহীন নৌযান এবং গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে রুশ নৌবাহিনীর ওপর চাপ তৈরি করেছে। এর ফলে রুশ যুদ্ধজাহাজগুলোকে ইউক্রেনের উপকূল থেকে দূরে থাকতে হয়েছে।

এই অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা পাওয়া যায়, দুর্বল কোনো পক্ষের জন্য সবসময় সমুদ্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া জরুরি নয়। বরং শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে কোনো নির্দিষ্ট জলপথ অবাধে ব্যবহার করতে না দেওয়াও কার্যকর প্রতিরক্ষা কৌশল হতে পারে।

তাইওয়ানের ক্ষেত্রেও লক্ষ্য হতে পারে চীনা নৌবাহিনীকে সরাসরি সমান শক্তিতে মোকাবিলা করার বদলে তাইওয়ান প্রণালি ব্যবহার করে আক্রমণ পরিচালনা কঠিন করে তোলা। এ জন্য ছোট যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, সেন্সর এবং দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থাকে একই নেটওয়ার্কের আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে।

ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও তাইওয়ানের জন্য একটি সম্ভাব্য উদাহরণ হতে পারে। বড় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের জলসীমা রক্ষায় দেশ দুটি নজরদারি, যোগাযোগ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

তাইওয়ান ইতিমধ্যে ছোট ও ভারী অস্ত্রসজ্জিত মিসাইল প্যাট্রোল জাহাজ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। ক্যাটামারান ধরনের নকশার কারণে এসব জাহাজ দ্রুতগতির এবং তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন বাড়াতে পারলে ভবিষ্যতে আরও উন্নত অস্ত্র, সেন্সর ও চালকবিহীন প্রযুক্তি এসব জাহাজে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

এর পাশাপাশি তাইওয়ানের সামুদ্রিক নজরদারি, ড্রোন, যোগাযোগব্যবস্থা এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক আধুনিক করার প্রয়োজন রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে দ্রুত যুদ্ধ-সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

তবে এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় বাধা প্রযুক্তিগত নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক। বড় যুদ্ধজাহাজ জাতীয় শক্তির দৃশ্যমান প্রতীক হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে এগুলো আকর্ষণীয়। বড় জাহাজ নির্মাণের সঙ্গে বড় শিল্পপ্রকল্প, বিনিয়োগ ও আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ও জড়িত থাকে। অন্যদিকে ড্রোন বা গোপন অবস্থানে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের কাছে তুলনামূলক কম দৃশ্যমান।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়লেও সেই অর্থ কোন খাতে ব্যয় করা হবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বড় ও ব্যয়বহুল যুদ্ধজাহাজে অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগের বদলে ছোট নৌযান, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থায় বেশি গুরুত্ব দিলে সম্ভাব্য সংঘাতে প্রতিরোধক্ষমতা বাড়তে পারে।

শেষ পর্যন্ত তাইওয়ানের জন্য মূল কৌশল হতে পারে—চীনের সঙ্গে সমান আকারের নৌবহর তৈরির প্রতিযোগিতায় না গিয়ে এমন একটি ছড়িয়ে থাকা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে তাইওয়ান প্রণালি দিয়ে চীনা বাহিনীর অবাধ সামরিক অগ্রযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে।