রবিবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬
২২ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> নিয়োগের ফল আগে থেকেই জানার অভিযোগ, পরীক্ষার পর একই দুই প্রার্থী নির্বাচিত

>> মালয়েশিয়ার কাছে হেরে জুনিয়র এশিয়া কাপে বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় পরাজয়

>> তরুণদের কৌতূহলী ও সৃজনশীল হওয়ার পরামর্শ টিকটকের সিইওর

>> ইটবোঝাই ট্রাকের চাপায় সাবেক ইউপি সদস্য নিহত, বিক্ষুব্ধ জনতার সড়ক অবরোধ

>> হাসপাতালে অসুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে সই নিলেই কি জমির মালিকানা বদলে যায়?

>> জেমিনাইয়ের পরামর্শে পাহাড়ে গিয়ে বিপদে তিন তরুণ, রাত কাটল গিরিখাতে

>> কুতুবদিয়া চ্যানেলে পড়ে নিখোঁজ শামীমের মরদেহ উদ্ধার

>> সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের সুবিধায় রংপুরে পিএসসির আঞ্চলিক কেন্দ্র চালু

>> তারকায় ঠাসা, দামে আকাশছোঁয়া—বিশ্বের ১০ দামি স্কোয়াড

>> গাভি ছাড়াই ‘দুধ’: নকল দুধের চক্র ঠেকাতে দরকার পুরো সরবরাহব্যবস্থায় নজরদারি

আপনি পড়ছেন : বিশ্ব

তরুণদের কৌতূহলী ও সৃজনশীল হওয়ার পরামর্শ টিকটকের সিইওর


Rabeya ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৩:০৪



তরুণদের কৌতূহলী ও সৃজনশীল হওয়ার পরামর্শ টিকটকের সিইওর


নতুন প্রজন্মকে কৌতূহলী থাকতে, অজানাকে জানার চেষ্টা করতে এবং প্রচলিত চিন্তার বাইরে গিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন টিকটকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। তাঁর মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে তরুণদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হতে পারে শেখার আগ্রহ, সৃজনশীলতা ও অনিশ্চয়তাকে গ্রহণ করার মানসিকতা।

এক বক্তব্যে নিজের শৈশব ও কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষাকে এমন একটি পাসপোর্ট হিসেবে দেখা যায়, যার কোনো মেয়াদ শেষ হয় না। শিক্ষা মানুষের চিন্তার পরিসর বাড়ায় এবং নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়।

সিঙ্গাপুরে নিজের বেড়ে ওঠার স্মৃতিচারণ করে টিকটকের সিইও জানান, ছোটবেলায় পরিচিত এলাকা ও পরিবেশের মধ্যেই তাঁর পৃথিবী সীমাবদ্ধ ছিল। পরে নিজের এলাকার বাইরে গিয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়ায় সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ হয়। তাঁর ভাষায়, দূরত্ব খুব বেশি না হলেও নতুন পরিবেশে যাওয়া তাঁকে পরিচিত আরামের গণ্ডির বাইরে নিয়ে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। আয়তনে ছোট একটি দেশ হয়েও কৌতূহল, প্রতিকূলতা মোকাবিলা এবং বিশ্বমুখী হওয়ার মানসিকতার কারণে দেশটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের প্রভাব তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহের শুরু শৈশবেই

নিজের শৈশবের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ছোটবেলায় বাবার কেনা একটি ব্যক্তিগত কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘ সময় কাটাতেন। তখন খুব উন্নত কোনো সফটওয়্যার তৈরি না করলেও কম্পিউটার গেম খেলার মধ্য দিয়েই প্রযুক্তির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়।

পরবর্তী সময়ে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। এরপর বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাক্সে কাজ করার পাশাপাশি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে এমবিএ করেন।

বিশ্ব অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবর্তন সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকেই তিনি এ পথ বেছে নিয়েছিলেন। সেই সময় প্রযুক্তি ও নতুন ধরনের স্টার্টআপে বিনিয়োগ বাড়তে দেখে প্রযুক্তির পরিবর্তনশীল শক্তি তাঁকে আরও বেশি আকৃষ্ট করে।

একপর্যায়ে শৈশবের প্রযুক্তিপ্রীতি আবারও প্রবল হয়ে ওঠে। তিনি উপলব্ধি করেন, কৌতূহল মানুষকে শেষ পর্যন্ত তার প্রকৃত আগ্রহের জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তাই শুধু পরিবর্তন দেখার বদলে সেই পরিবর্তনের অংশ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

প্রযুক্তি শুধু কোড বা যন্ত্র নয়

টিকটকের সিইওর মতে, প্রযুক্তিকে শুধু হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার বা কোডিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখা উচিত নয়। এর বড় শক্তি হলো মানুষের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা এবং একটি ধারণা বা গল্পকে বিশ্বের কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

নিজের ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অ্যানালগ সময় থেকে ডিজিটাল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে কাজ করা এবং বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে প্রযুক্তির ব্যাপক প্রভাব সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।

এআইয়ের যুগে তরুণদের করণীয়

নতুন প্রজন্ম এমন এক সময়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করছে, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে পরিবর্তনের গতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। এই পরিবর্তনকে ভয় না পেয়ে তরুণদের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

তাঁর পরামর্শ, অজানাকে জানার আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এমন জায়গায় কাজ বা শেখার সুযোগ নিতে হবে, যেখানে নিজেকে সবচেয়ে কম অভিজ্ঞ মনে হয়। কারণ নতুন পরিবেশ ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই অনেক সময় শেখার সবচেয়ে বড় সুযোগ তৈরি হয়।

একই সঙ্গে মেধাবী সহপাঠী ও সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, শক্তিশালী একটি কমিউনিটি কঠিন সময়ে মানুষকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।

সবশেষে তরুণদের নিজেদের কৌতূহল, সৃজনশীলতা এবং কাজের আনন্দ ধরে রাখার আহ্বান জানান টিকটকের সিইও। তাঁর বিশ্বাস, নতুন প্রজন্মই ইতিবাচক উদ্ভাবনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের পৃথিবীকে আরও নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারে।