জয়পুরহাট সদর উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসায় নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর আগেই দুই পদের নির্বাচিত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, পরীক্ষা ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। পরে পরীক্ষা শেষে প্রকাশিত ফলাফলে সেই দুই প্রার্থীই নির্বাচিত হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শনিবার উপজেলার গতন শহর দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসায় অফিস সহায়ক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দুটি পদে একজন করে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। এতে ১১ জন আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে তিনজনের আবেদন বাতিল হওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নেন আটজন।
পরীক্ষা শুরুর আগে মাদ্রাসার সামনে স্থানীয় কয়েকজন জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে শাওন হোসেন এবং অফিস সহায়ক পদে আবদুল্লাহ আল মামুনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সালমান বিন মৃদুল সাংবাদিকদের বলেন, তাঁদের ধারণা অনুযায়ী এটি ছিল শুধু নিয়ম রক্ষার পরীক্ষা। তাঁর অভিযোগ, দুই প্রার্থীর নিয়োগ আগেই ঠিক করা হয়েছিল।
পরে বিকেলে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হলে দেখা যায়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে শাওন হোসেন এবং অফিস সহায়ক পদে আবদুল্লাহ আল মামুন নির্বাচিত হয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ না দিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বজনদের নিয়োগ দেওয়ার আশঙ্কা থেকেই তাঁরা প্রতিবাদ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে নির্বাচিত প্রার্থীদের পারিবারিক সম্পর্কের কারণে। শাওন হোসেন পুরানাপৈল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরমান হোসেনের ভাই এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলমগীর হোসেনের চাচা। অন্যদিকে আলমগীর হোসেনের আপন ভাই গোলাম কিবরিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি। তিনিই নিয়োগ বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
তবে নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া পরীক্ষা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে হয়েছে বলে দাবি করেছেন। আত্মীয়কে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচিত প্রার্থীদের একজন তাঁর চাচা।
মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট আবদুস ছালামও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ নাকচ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, প্রচলিত নিয়ম মেনেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। ১১ জন আবেদন করলেও যাচাই-বাছাইয়ের পর আটজন পরীক্ষায় অংশ নেন এবং পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই শাওন হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন নির্বাচিত হয়েছেন।
পরীক্ষার আগেই তাঁদের নাম কীভাবে আলোচনায় এল—এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপারিনটেনডেন্ট বিষয়টিকে কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।