কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার দুই অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহীন আলমের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল।
মঙ্গলবার ইন্টারপোল পৃথকভাবে তাঁদের নামে রেড নোটিশ জারি করে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দুজনকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তদন্তকারীরা জানান, মামলার তদন্তের একপর্যায়ে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন হলে জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমের নমুনা নেওয়ার উদ্যোগ করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে তাঁদের অবস্থান জানা নেই এবং তাঁরা পলাতক রয়েছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তনু হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদুজ্জামান কুমিল্লা সেনানিবাসে সার্জেন্ট এবং শাহীন আলম সৈনিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে কুমিল্লা কারাগারে আছেন। হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার এবং ২০২৩ সালে অবসর নেন। তনু হত্যার সময় তিনিও কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি বাসায় টিউশনি পড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছের একটি ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত বর্তমানে পিবিআইয়ের কাছে রয়েছে। এরই মধ্যে পলাতক দুই অভিযুক্তকে শনাক্ত করা, তাঁদের অবস্থান নির্ণয় এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তারের উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের এনসিবি-ঢাকা, পিবিআইয়ের অনুরোধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির কার্যক্রম শুরু করে।
প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি যাচাই শেষে ইন্টারপোল দুজনের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করেছে।
রেড নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোলের সদস্যদেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো অভিযুক্তদের শনাক্ত ও অবস্থান নির্ণয়ে সহযোগিতা করতে পারবে। কোনো দেশে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতার কাঠামো অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।