একজন ছিলেন মাঠের তারকা, অন্যজন ডাগআউটের কৌশলী কারিগর। তাঁদের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না, তবে এল ক্লাসিকোতে মেসি ও হোসে মরিনিওর উপস্থিতি একসময় ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত দ্বৈরথ তৈরি করেছিল।
মেসির পায়ের জাদুর বিপরীতে মরিনিওর কৌশল—দুই ভিন্ন ধরনের দক্ষতার এই লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ছিল বেশ আকর্ষণীয়। সেই সময় পেরিয়ে গেছে এক যুগেরও বেশি। এবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে মেসির বিদায়ের ঘোষণার পর তাঁকে নিয়ে নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন মরিনিও।
রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনে মেসির জাতীয় দল থেকে অবসরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় মরিনিওকে। জবাবে তিনি মেসির অসাধারণ খেলোয়াড়ি দক্ষতার প্রশংসা করেন।
মরিনিও বলেন, মেসির মতো খেলোয়াড় সম্পর্কে কথা বলা কঠিন। তাঁর সামর্থ্য নিয়ে নতুন করে বলারও তেমন কিছু নেই। বয়স প্রায় ৩৮ বা ৩৯ হলেও বিশ্বকাপে মেসি নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো মেসি এবারও দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এরপরই ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা জাতীয় দলের হয়ে আর না খেলার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
মেসির বিদায়কে ফুটবলের একটি বিশেষ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন মরিনিও। তাঁর মতে, এমন কিছু খেলোয়াড় থাকেন, যাঁদের অবসর বা বিদায়ের পর সত্যিই শূন্যতা অনুভূত হয়।
মেসির খেলা দেখতে প্রয়োজনে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচও দেখবেন বলে জানান মরিনিও। যদিও তিনি নিজে খুব একটা এমএলএস দেখেন না, মেসির জন্য সেটিও করতে রাজি আছেন বলে উল্লেখ করেন।
মেসি ও মরিনিও কখনো একই দলের হয়ে কাজ করেননি। মেসি বার্সেলোনায় খেলার সময় ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্বে ছিলেন মরিনিও। ওই সময়ে দুই দলের প্রতিটি এল ক্লাসিকোতেই মেসি ও মরিনিওকে ঘিরে আলাদা উত্তেজনা তৈরি হতো।
সময়ের ব্যবধানে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধ্যায় শেষ হয়েছে। তবে মেসির মতো একজন তারকাকে যে ফুটবলবিশ্ব দীর্ঘদিন মনে রাখবে, মরিনিওর মন্তব্যে তারই প্রতিফলন দেখা গেছে।