ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ ফুটবল লিগে এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ক্লাবগুলো মোট ১ হাজার ৪৩৭টি চুক্তি সম্পন্ন করেছে। সব মিলিয়ে খেলোয়াড় কিনতে খরচ হয়েছে প্রায় ৬৫০ কোটি পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ সময় গতকাল রাত ৪টায় শেষ হয়েছে ইউরোপের গ্রীষ্মকালীন দলবদলের সময়সীমা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের হিসাব অনুযায়ী, এবারও সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো। তাদের মোট খরচ ৩৪৬ কোটি পাউন্ড, যা এই লিগের দলবদলের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড।
দলবদলের শেষ দিনে এভারটন থেকে সেনেগালের উইঙ্গার ইলিমান এনদিয়ায়েকে ৬ কোটি পাউন্ডে দলে নেয় ম্যানচেস্টার সিটি। এই চুক্তির পরই প্রিমিয়ার লিগের মোট খরচ গত মৌসুমের ৩১৪ কোটি পাউন্ডের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়।
শেষ দিনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল এনজো ফার্নান্দেজের দলবদল। সময়সীমা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর চেলসি থেকে তাঁর ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারকে দলে নিতে সিটি খরচ করেছে ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৭১ কোটি টাকা। ব্রিটিশ ফুটবলে এটি যৌথভাবে সবচেয়ে দামি দলবদল।
এর আগে গত মৌসুমের গ্রীষ্মকালীন দলবদলের শেষ দিনে নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে আলেকসান্দার ইসাককে একই মূল্যে দলে নিয়েছিল লিভারপুল।
শুধু দলবদলের শেষ দিনেই প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো খেলোয়াড় কেনায় খরচ করেছে ৪৭ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। আগের মৌসুমে শেষ দিনে খরচ হয়েছিল ৩৯ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড। অর্থাৎ শেষ দিনের খরচেও এবার নতুন রেকর্ড হয়েছে।
ফুটবলট্রান্সফার্স ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা পল ম্যাকডোনাল্ডের মতে, এবারের দলবদলে ক্লাবগুলোর মোট ব্যয় পাঁচ বছর আগের ১১৩ কোটি পাউন্ডের হিসাবকে অনেক পেছনে ফেলেছে। এতে শীর্ষ খেলোয়াড়দের দলে ভেড়াতে ইংলিশ ক্লাবগুলোর আর্থিক সামর্থ্য ও প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে।
ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ১০টি দলবদলের মধ্যে তিনটিই হয়েছে এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে। পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি পাঁচটি চুক্তির চারটিও সম্পন্ন হয়েছে এবার।
ফার্নান্দেজের পাশাপাশি ম্যানচেস্টার সিটি নটিংহ্যাম ফরেস্টের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ১১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে দলে নিয়েছে। চেলসি অ্যাস্টন ভিলা থেকে মরগান রজার্সকে কিনেছে ১১ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডে। আর লিভারপুল পিএসজি থেকে ব্র্যাডলি বারকোলাকে দলে নিতে খরচ করেছে ১০ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড। শর্ত পূরণ হলে এই চুক্তির মূল্য ১২ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
প্রিমিয়ার লিগের বাইরে ৬ কোটি পাউন্ডের বেশি মূল্যের চুক্তি হয়েছে মাত্র দুটি। রিয়াল মাদ্রিদে ইয়ান দিওমান্দের যোগ দেওয়া এবং নিউক্যাসল থেকে বার্সেলোনায় অ্যান্টনি গর্ডনের দলবদল ছিল সেগুলোর মধ্যে।
এবারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ২০টি দলবদলের মধ্যে মাত্র ছয়টি হয়েছে প্রিমিয়ার লিগের বাইরে। এমনকি সদ্য প্রিমিয়ার লিগে ওঠা ইপসউইচ টাউনও খেলোয়াড় কেনায় বার্সেলোনা, এসি মিলান, জুভেন্টাস ও বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন পিএসজির চেয়ে বেশি অর্থ খরচ করেছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসের হিসাব অনুযায়ী, এবার অন্তত ১০ কোটি ইউরো মূল্যে ছয়জন খেলোয়াড় বিক্রি হয়েছেন। তাঁদের পাঁচজনই প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গে যুক্ত, আর অন্যজন রিয়ালে যাওয়া দিওমান্দে। এর আগে ২০১৭-১৮, ২০১৯-২০ ও ২০২৩-২৪ মৌসুমে সর্বোচ্চ তিনজন করে খেলোয়াড় ১০ কোটি ইউরো বা তার বেশি মূল্যে বিক্রি হয়েছিলেন।
এবারের দলবদলে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ফার্নান্দেজকে দলে নেওয়ার পর তাদের মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড। এক মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের কোনো ক্লাবের জন্য এটি নতুন রেকর্ড। গত গ্রীষ্মে লিভারপুলের ৪১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের রেকর্ড ছিল আগের সর্বোচ্চ।
তবে খেলোয়াড় কেনার পাশাপাশি বিক্রিত খেলোয়াড় থেকেও বড় অঙ্কের অর্থ পেয়েছে সিটি। খেলোয়াড় বিক্রি করে তাদের আয় হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড।
খরচের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চেলসি। নতুন খেলোয়াড় কিনতে তারা ব্যয় করেছে ৩৪ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড। বিপরীতে খেলোয়াড় বিক্রি করে আয় করেছে ৩৮ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড। ফলে দলবদলের বাজারে তাদের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড।
তৃতীয় সর্বোচ্চ খরচ করেছে টটেনহাম হটস্পার। খেলোয়াড় কেনায় তাদের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ২ লাখ পাউন্ড।