বুধবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> না বুঝে স্টেরয়েড গ্রহণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

>> প্রক্সি দিয়ে পরীক্ষায় অংশ, চাকরিতে যোগ দিতে এসে পিএসসিতে আটক প্রার্থী

>> বাবার ইসলাম গ্রহণে ছেলেদের অভিনব কৌশল

>> সবচেয়ে ব্যয়বহুল এনজো ফার্নান্দেজ, প্রিমিয়ার লিগে দলবদলের নতুন রেকর্ড

>> সফর শেষে ঢাকা ছাড়লেন আইপিইউ মহাসচিব

>> জয়পুরহাটে হাতকড়া পরেই মায়ের জানাজায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

>> ‘কখনো কখনো মনে হয়, বেঁচে থাকাটাই অর্থহীন’—নেপালের বন্যায় স্বজনহারা শ্রমিক

>> রোগীর মৃত্যু নিয়ে সংঘর্ষ, চার ছাত্রদল নেতাসহ ৬ জন আটক

>> হাসপাতালে জ্বালানিমন্ত্রীকে দেখতে গেলেন রাষ্ট্রপতি

>> চট্টগ্রাম বিআরটিএ অফিসে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ, সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

আপনি পড়ছেন : বগুড়া

রোগীর মৃত্যু নিয়ে সংঘর্ষ, চার ছাত্রদল নেতাসহ ৬ জন আটক


Rabeya ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৫৯



রোগীর মৃত্যু নিয়ে সংঘর্ষ, চার ছাত্রদল নেতাসহ ৬ জন আটক


বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছয়জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হয়েছেন বলে দাবি চিকিৎসকদের। ঘটনার পর নিরাপত্তার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন তারা।

মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের সপ্তম তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে এ সংঘর্ষ হয়।

চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

ইন্টার্ন চিকিৎসক ঋতু মণ্ডল জানান, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির মধ্যেও হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম চালু রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীদের সেবা স্বাভাবিক রাখতে জ্যেষ্ঠ ও মধ্যম পর্যায়ের চিকিৎসকদের দায়িত্ব বাড়ানো হয়েছে।

রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল মালেক (৫৫) অ্যাজমাজনিত জটিলতা নিয়ে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এরপর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাষ্য, এক চিকিৎসককে পরিস্থিতি থেকে সরিয়ে নিতে গেলে ইন্টার্ন চিকিৎসক আজরাফ ইসলাম হামলার শিকার হন। পরে আরও কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক সেখানে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ছয়জন চিকিৎসক আহত হন। তাঁদের কয়েকজনের হাড়ে আঘাত বা ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

হাসপাতালে আটক, পরে পুলিশ হেফাজতে ৬ জন

সংঘর্ষের পর রোগীর সঙ্গে হাসপাতালে থাকা ছয়জনকে ভেতরে আটকে রাখেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। রাত প্রায় ৩টার দিকে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—বগুড়া শহরের ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়ার নাফিউল ইসলাম (২৬), প্রান্ত (২২), রাকিবুল হাসান (১৮), ফুলবাড়ী উত্তরপাড়ার মুন্না শেখ (১৮), নামাজগড়ের বিপ্লব সরদার (২৬) এবং নিশিন্দারা এলাকার তানভীর শেখ (২৬)।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নাফিউল ইসলাম ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক, প্রান্ত যুগ্ম আহ্বায়ক, রাকিবুল হাসান সদস্য এবং মুন্না শেখ ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক।

তবে আটক ব্যক্তিদের ছাত্রদলের পদ-পদবি সম্পর্কে নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশ। তিনি বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি জানতে পেরেছেন। চিকিৎসকদের ওপর হামলায় ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে যায়।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে কয়েকজন বহিরাগত তাঁদের ওপর হামলা করেন। পরে হাসপাতালের ভেতরে আটক ছয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে চারজন অসুস্থ থাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ওসি জানান, দুই পক্ষের যেকোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে ঘটনার বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার

আবদুল মালেকের মৃত্যুর পেছনে চিকিৎসকদের কোনো অবহেলা বা ভুল চিকিৎসা ছিল না বলে দাবি করেছেন হাসপাতালের উপপরিচালক মনজুর এ মুর্শেদ।

তিনি জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে যাতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত না হয়, সে জন্য নিয়মিত দায়িত্বে অতিরিক্ত জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের যুক্ত করা হয়েছে।

তবে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের বা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি।