ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই টেস্টেই হেরেছে পাকিস্তান। হেডিংলির পর লর্ডসেও পরাজয়ের ফলে টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ ৩৯ বছর পর নতুন এক পরিসংখ্যানের মুখোমুখি হয়েছে দলটি। এখন পাকিস্তানের মোট টেস্ট হারের সংখ্যা তাদের জয়ের চেয়ে বেশি।
লর্ডসে ১৯৪ রানের পরাজয়ের পর ৪৭৩টি টেস্ট খেলে পাকিস্তানের জয় দাঁড়িয়েছে ১৫৩টি, আর হার ১৫৪টি। বাকি ১৬৬টি ম্যাচ হয়েছে ড্র।
১৯৫২ সালে টেস্ট ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করে পাকিস্তান। সর্বশেষ ১৯৮৭ সালে তাদের জয়ের তুলনায় হার বেশি ছিল। ওই বছরের আগস্টে ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ড্র হওয়ার পর পাকিস্তানের জয় ছিল ৩৯টি, আর হার ৪০টি।
এরপর প্রায় চার দশক পাকিস্তানের জয়ের সংখ্যা হারের চেয়ে বেশি ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় সেই ব্যবধান ধীরে ধীরে কমে আসে। শেষ পর্যন্ত আবারও ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই এমন পরিস্থিতিতে পড়ল পাকিস্তান।
পাকিস্তানের মতো টেস্ট ক্রিকেটে জয়-হারের হিসাবে পিছিয়ে রয়েছে ভারতও। ৬০১টি টেস্ট খেলে ভারতের জয় ১৮৭টি এবং হার ১৮৮টি। অর্থাৎ তাদেরও হারের সংখ্যা জয়ের চেয়ে একটি বেশি।
জয়-হারের অনুপাতের হিসাবে পাকিস্তানের অবস্থান ০.৯৯৩, আর ভারতের ০.৯৯৪।
বর্তমানে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে মাত্র তিনটি দলের জয়সংখ্যা হারের চেয়ে বেশি। তারা হলো অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল দল অস্ট্রেলিয়া ৮৮৪ ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছে ৪২৭টিতে। বিপরীতে তাদের হার ২৩৬টি। ফলে জয়-হারের অনুপাত ১.৮০৫।
ইংল্যান্ড ১ হাজার ৯৯টি টেস্ট খেলেছে। তাদের জয় ৪০৭টি এবং হার ৩৩৬টি।
দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ১৯১টি, আর হার ১৬২টি।
টেস্টে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা দল ইংল্যান্ড। তবে জয়ের শতাংশের বিচারে অস্ট্রেলিয়ার কাছাকাছি অন্য কোনো দল নেই।
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট জয়ের হার ৪৮.৪১ শতাংশ। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা, তাদের জয়ের হার ৩৯.৮৭ শতাংশ। ইংল্যান্ডের জয়ের হার ৩৭.০৩ শতাংশ।
টেস্ট খেলুড়ে ১২টি দেশের মধ্যে জয়ের শতাংশের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।
বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ১৬১টি টেস্ট খেলেছে। এর মধ্যে জয় এসেছে ২৮ ম্যাচে, আর হার ১১৪টিতে। ফলে জয়ের হার ১৭.৩৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ অবশ্য প্রথম টেস্ট জয় পেতে ৩৫টি ম্যাচ খেলেছিল।
জয়ের শতাংশে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে জিম্বাবুয়ে। তারা ১৩০টি টেস্ট খেলে জয় পেয়েছে ১৬টিতে এবং হেরেছে ৮৪টিতে। তাদের জয়ের হার মাত্র ১২.৩০ শতাংশ।
জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশ—এই দুই দলের জয়ের হারই এখনো ২০ শতাংশের নিচে।
টেস্ট ক্রিকেটের তুলনামূলক নবীন সদস্য আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের পরিসংখ্যান কিছুটা ভালো।
আফগানিস্তান ১৩টি টেস্টের মধ্যে চারটিতে জয় পেয়েছে। তাদের জয়ের হার ৩০.৭৬ শতাংশ।
একই সংখ্যক টেস্ট খেলা আয়ারল্যান্ডের জয় তিনটি। তাদের জয়ের হার ২৩.০৭ শতাংশ।
সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক পরাজয়ের কারণে পাকিস্তান এখন এমন একটি পরিসংখ্যানের মুখোমুখি, যেটি প্রায় চার দশক ধরে তাদের ছিল না। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা এখনো টেস্টে জয়-হারের হিসাবে এগিয়ে থাকা দলগুলোর তালিকায় রয়েছে।