ভারতের জয়টা একসময় প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। শ্রীলঙ্কার শেষ চার উইকেট তুলে নিতে পুরো দিন সময় হাতে পেয়েছিল ভারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের হারাতে পারেনি শুবমান গিলের দল। সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ভারতকে ড্র মেনে নিতে হয়েছে।
কলম্বোয় টেস্টের শেষ দিনে ৮১.২ ওভার ব্যাট করেও শ্রীলঙ্কার শেষ চার উইকেট তুলে নিতে পারেনি ভারত। টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করে দিনুশা ১৩৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।
গল টেস্টে জিতে সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ভারত কলম্বো টেস্টের পঞ্চম দিন শুরু করেছিল সিরিজ ২–০ করার লক্ষ্য নিয়ে। আগের দিন ফলো–অনে পড়া শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ২২৯ রান। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাদের লিড ছিল মাত্র ১৬ রান।
সেখান থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন দিনুশা। আগের দিন ৭ রানে অপরাজিত থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান শেষ দিনেও অবিচল থাকেন। ভারতের অধিনায়ক একের পর এক বোলার ও ফিল্ডিং পরিবর্তন করেও তাঁর প্রতিরোধ ভাঙতে পারেননি।
সপ্তম উইকেটে কেশারা নুয়ান্থার সঙ্গে ১১২ রানের জুটি গড়েন দিনুশা। ৪০.২ ওভার স্থায়ী এই জুটি ভাঙার সময় নুয়ান্থার সংগ্রহ ছিল ৪৬ রান। এরপর লাহিরু কুমারার সঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ভারতকে হতাশ করেন দিনুশা। দুজন মিলে ২৮ ওভার ব্যাট করেন। এর মধ্যে লাহিরু একাই খেলেন ১৫ ওভার বা ৯০ বল।
এরই মধ্যে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন দিনুশা। চলতি সিরিজে এটি তাঁর তৃতীয় শতক।
লাহিরু কুমারাকে রবীন্দ্র জাদেজা ফিরিয়ে দেওয়ার পরও থামেননি দিনুশা। আসিতা ফার্নান্দোর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যান তিনি। আসিতা কোনো রান না করলেও ২৪ বল মোকাবিলা করেন।
শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার লিড ২১৬ রানে পৌঁছালে ম্যাচে হার এড়ানো নিশ্চিত হয়। এরপর ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিক দল। ভারত ড্র মেনে নেওয়ায় নির্ধারিত সময়ের ১৭ ওভার আগেই ম্যাচ শেষ হয়।
ম্যাচ শেষে ভারতীয় ক্রিকেটাররা এগিয়ে এসে দিনুশাকে অভিনন্দন জানান। কোচ গ্যারি কারস্টেনও মাঠে এসে ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানকে জড়িয়ে ধরেন।
একসময় যে ম্যাচে শ্রীলঙ্কার হার প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল, দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সেই ম্যাচই শেষ পর্যন্ত স্মরণীয় ড্রয়ে পরিণত হয়েছে। ফলে দুই টেস্টের সিরিজে ভারতকে ১–০ ব্যবধানেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা পেল নতুন এক টেস্ট নায়ককে।