ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চমক দেখানোর পর ম্যাকাই টেস্টে পুরোপুরি বিপরীত চিত্র দেখা গেল বাংলাদেশের। মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ইনিংস ও ৫১ রানে ম্যাচ হেরে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে নাজমুল হোসেনের দল।
ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল সবচেয়ে বড় হতাশার জায়গা। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৯৫ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ম্যাচে বাংলাদেশের দুই ইনিংসই একশ রানের নিচে শেষ হলো।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, দুই দিনের মধ্যেই টেস্ট শেষ হয়ে যাওয়ায় বাকি তিন দিন দলের খেলোয়াড়েরা কী করবেন। হাস্যরস করে তিনি বলেন, “ঘুমাব, শুয়ে থাকব।”
তবে ম্যাচের ফল নিয়ে হাসির সুযোগ খুব বেশি ছিল না। নাজমুল মনে করেন, কঠিন উইকেট বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরাও একই উইকেটে ব্যাটিং করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন।
তবে উইকেটকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। নিজেদের ভুলও স্বীকার করেছেন তিনি। নাজমুলের মতে, দলের ব্যাটসম্যানদের কিছু বাজে শট ছিল এবং পুরো দল প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো ক্রিকেট খেলতে পারেনি।
নিজের ব্যাটিং নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন অধিনায়ক। সেট হওয়ার পর আউট হয়ে যাওয়াকে তিনি নিজের জন্য গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না। তাঁর মতে, ওই সময় আরও কিছুক্ষণ উইকেটে থাকা প্রয়োজন ছিল।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ান অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০টি উইকেট শিকার করেন তিনি। ম্যাচের প্রথম ঘণ্টাতেই পাঁচ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে বড় ধাক্কা দেন এই পেসার।
এ ধরনের কন্ডিশন ও মানসম্পন্ন বোলিংয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের নিয়মিত খেলার সুযোগ কম—এ কথাও উল্লেখ করেন নাজমুল। তবে এটিকে অজুহাত হিসেবে দেখাতে চাননি তিনি।
বাংলাদেশ অধিনায়কের মতে, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও দলের খেলোয়াড়েরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে স্বীকার করেছেন, দল হিসেবে আরও ভালো পারফরম্যান্স করার সুযোগ ছিল।
ডারউইনে ঐতিহাসিক জয়ের পর ম্যাকাইয়ে মাত্র দুই দিনে হেরে যাওয়ায় দুই টেস্টের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে বাংলাদেশ। এক ম্যাচে বড় জয়, পরের ম্যাচে বড় ধস—অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে তাই দেখা গেল দুই রকমের চিত্র।