শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
২ কার্তিক ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> সিলেটের বিতর্কিত মোটরযান পরিদর্শক দেলোয়ার এখন কুমিল্লায়, দালালচক্রের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ

>> জাল স্বাক্ষরে গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের অভিযোগ, বিআরটিএর বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন

>> হঠাৎ ভারত সফরে যাচ্ছেন মোজাম্মেলের মেয়ে মেহেরিন, ছুটির আদেশ ঘিরে আলোচনা

>> সৌদি আরবে হামলার পর আতঙ্কে ওমরাহ যাত্রীরা, ফ্লাইট বাতিলে বাড়ছে ভোগান্তি

>> ইউপি সদস্যের লুঙ্গির কোঁচায় মিলল ১৯৮ ইয়াবা, মাদক মামলায় গ্রেপ্তার

>> কুমিল্লার সংঘর্ষের নেপথ্যে কী, খতিয়ে দেখবে জামায়াত

>> ‘মার্কিন চুক্তি আসলে চুক্তি নয়, ট্রাম্পের আদেশনামা’: আনু মুহাম্মদ

>> ইউপি নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে বিএনপি, বিদ্রোহী হলেই কঠোর ব্যবস্থা

>> গোপনে শিবির, প্রকাশ্যে ছাত্রলীগ করে বারুদ বজ্রকণ্ঠ অর্জন করা যায় না’: রাশেদ খাঁন

>> গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় পরিবারের বাড়ির একাংশ ধসে পড়ল

আপনি পড়ছেন : এক্সক্লুসিভ

সিলেটের বিতর্কিত মোটরযান পরিদর্শক দেলোয়ার এখন কুমিল্লায়, দালালচক্রের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ


Sheikh Mojahidur Rahman ১৬ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৫:৪৭
সিলেটের বিতর্কিত মোটরযান পরিদর্শক দেলোয়ার এখন কুমিল্লায়, দালালচক্রের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে গাড়ির ফিটনেস সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, নতুন যানবাহনের নিবন্ধন ও মালিকানা পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করছেন গ্রাহকেরা। নির্ধারিত সরকারি ফি জমা দেওয়ার পরও সেবা পেতে বিলম্ব, আবেদন আটকে রাখা, কাগজপত্রে ত্রুটি দেখানো এবং দালালের মাধ্যমে কাজ করানোর চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের সঙ্গে কুমিল্লা বিআরটিএ কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী ও বাইরে সক্রিয় দালালদের একটি অংশের সঙ্গে তাঁর যোগসাজশ রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত সেবা পাওয়া গেলেও নিয়ম মেনে আবেদনকারীদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

কুমিল্লা নগরীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থিত বিআরটিএ কার্যালয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন সেবা নিতে আসেন। কেউ গাড়ির নিবন্ধন, কেউ মালিকানা পরিবর্তন, আবার কেউ ফিটনেস সনদ কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব সেবা নিতে গিয়ে অনেক গ্রাহককে এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে ঘুরতে হয়। কখনো কাগজপত্রের ত্রুটি, কখনো প্রক্রিয়াগত জটিলতা দেখিয়ে তাঁদের অপেক্ষায় রাখা হয়।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, দীর্ঘসূত্রতার কারণে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সময়মতো না পাওয়ায় যানবাহন ব্যবহার ও সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রেও তাঁদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

লাইসেন্স পেতে বিলম্ব, ভোগান্তিতে গ্রাহকেরা

ছোট একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন আব্দুস সোবহান। যাতায়াতের সুবিধার জন্য মোটরসাইকেল কেনার পর তিনি ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করেন। নির্ধারিত সরকারি ফি জমা দেওয়ার পর তাঁর স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স গত ২১ আগস্ট সরবরাহ করার কথা ছিল। কিন্তু বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, লাইসেন্স পাওয়ার সময়সীমা আরও দুই মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সোবহানের অভিযোগ, দালালের মাধ্যমে কাজ না করায় তাঁকে বারবার ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “আমাকে পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।”

আরেক সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, তিন বছর পার হলেও তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পাননি। অন্য এক গ্রাহক জানান, একটি কক্ষে গেলে তাঁকে অন্য কক্ষে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে আবার আরেক কক্ষে যেতে বলা হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁর কাজের তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়।

চালক ও গাড়ির মালিকদের অভিযোগ, দালালের সহায়তা ছাড়া নিয়ম অনুযায়ী কাজ করতে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে আবেদন আটকে রাখা হয়। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে মধ্যস্থতাকারীদের দ্বারস্থ হন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক নেতার দাবি, নির্দিষ্ট দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে রাজি হলে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে।

দেলোয়ারকে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

কুমিল্লা বিআরটিএ কার্যালয়ের কর্মচারী সালাউদ্দিন এবং তাঁর খালাতো ভাই মামুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দালালচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ। তাঁদের দাবি, মোটরযান পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে এই চক্রের যোগাযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন, যানবাহনের কাগজপত্রে অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি জানা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, দেলোয়ার হোসেনের মাসিক বেতন প্রায় ৩৮ হাজার টাকা। অথচ কুমিল্লা নগরীর একটি অভিজাত এলাকায় তাঁর বাসাভাড়া প্রায় ২৫ হাজার টাকা এবং ঢাকায় স্ত্রী-সন্তানদের জন্য ভাড়া করা ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়া প্রায় ৫০ হাজার টাকা। নিয়মিত যাতায়াত, সন্তানদের পড়াশোনা ও পারিবারিক ব্যয়সহ তাঁর মাসিক খরচ প্রায় দুই লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন তাঁর সহকর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি।

একই সূত্রের অভিযোগ, কুমিল্লা বিআরটিএর মোটরযান শাখায় অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে তাঁর মাসিক আয় প্রায় ৪০ লাখ টাকা। প্রতিদিন সন্ধ্যায় একজন ব্যক্তি তাঁর হয়ে অর্থ বহন করেন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিচিত ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে লেনদেন করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব আর্থিক দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।

অভিযোগকারীরা ২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি পূবালী ব্যাংকের লক্ষ্মীপুর শাখায় ‘জিহাদ স্টোর’ নামের একটি হিসাবের অর্থ লেনদেনের ভাউচার এবং প্রাইম ব্যাংকের একটি ব্যক্তিগত হিসাবের তথ্যের কথাও উল্লেখ করেছেন। এসব নথির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

সিএনজিচালিত অটোরিকশার চেসিস নম্বর ও কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন

দেলোয়ার হোসেনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের মধ্যে চোরাই সিএনজিচালিত অটোরিকশার চেসিস নম্বর পরিবর্তন, নতুন পরিচয়ে কাগজপত্র তৈরি এবং ফিটনেস সনদ দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, পুরোনো গাড়ির চেসিস নম্বর পরিবর্তন করে অন্য গাড়ির পরিচয় ব্যবহার করা হতো। এ ধরনের প্রতিটি গাড়ির বিপরীতে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে গাড়ির মূল নথি, কারিগরি পরীক্ষা, নিবন্ধন রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা যাচাই করা জরুরি।

এ-সংক্রান্ত আলোচনায় দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে—সিলেট-থ-১১-২৫২২ এবং সিলেট-থ-১১-৩২৬০।

সিলেট-থ-১১-২৫২২ নম্বরের গাড়ির নথি নিয়ে অভিযোগ

উপস্থাপিত নথি অনুযায়ী, ২০১০ সালে গাড়িটির নিবন্ধন-সংক্রান্ত কার্যক্রম টাঙ্গাইল সার্কেল অফিসে স্থানান্তর করা হয়। ২০১১ সালের ১২ জুন সাউথইস্ট ব্যাংকের টাঙ্গাইল শাখায় সরকারি ফি জমা দেওয়ার পর ১৪ জুন গাড়িটির ফিটনেস সনদ নেওয়া হয়। বিআরটিএর আইএস সফটওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটির মালিক ছিলেন সিলেটের দক্ষিণবাগ গ্রামের সানুর মিয়া। গাড়িটির সর্বশেষ ফিটনেস সনদের মেয়াদ শেষ হয় ২০১২ সালের ১৩ জুন।

অভিযোগকারীদের দাবি, এরপর দীর্ঘ সময় গাড়িটির কাগজপত্র ও অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে একটি পুরোনো গাড়ির চেসিস নম্বর পরিবর্তন করে সেটিকে ওই গাড়ি হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগ ওঠে।

এ-সংক্রান্ত অভিযোগে সিলেটের নেসার উদ্দিন ফাহিম নামের এক তরুণের মাধ্যমে গাড়িটির কাগজপত্র হারানোর বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার কথা বলা হয়েছে। জিডি নম্বর ১৬৯৮, তারিখ ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪।

ফাহিমের বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিচিত এক ব্যক্তি তাঁকে জিডি করতে বলেছিলেন। পরে তাঁর মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে এর বেশি কিছু জানেন না বলে তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে।

উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটির ১২ বছরের সরকারি ফি জমা এবং ২০২৪ সালের ১২ মে ফিটনেস সনদ ইস্যুর বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের লেনদেন, ফিটনেস সনদ ইস্যুর রেকর্ড এবং গাড়ির চেসিসের প্রকৃত পরিচয় যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

সিলেট-থ-১১-৩২৬০ নম্বরের গাড়ির ফিটনেস সনদ নিয়ে প্রশ্ন

উপস্থাপিত নথি অনুযায়ী, সিলেট-থ-১১-৩২৬০ নম্বরের সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ২০০৩ সালের ১৮ মার্চ সিলেটে নিবন্ধিত হয়। ২০১৩ সালে গাড়িটি ফেনীর বদিউল আলমের কাছে বিক্রি করা হয়। একই বছরের ২৮ মার্চ মালিকানা পরিবর্তনের ফি জমা এবং ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ফেনী সার্কেলে রেকর্ড পরিবর্তনের জন্য অর্থ জমা দেওয়ার তথ্য রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে ফেনী সার্কেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে গাড়িটির ফিটনেস সনদ নবায়ন করেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে দেলোয়ার হোসেন গাড়িটির ফিটনেস সনদ ইস্যু করেন, যদিও গাড়িটির নথি ফেনী সার্কেলের অধীন থাকার কথা। কোন প্রক্রিয়ায় সনদটি ইস্যু করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট সার্কেলের অনুমোদন ছিল কি না, তা বিআরটিএর নথি যাচাই করে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, গাড়ির কাগজপত্রে অনিয়মের তথ্য গোপন রাখতে কোনো কোনো মালিকের কাছ থেকে ফাঁকা চেক নেওয়া হতো। এ অভিযোগেরও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

গ্রাহককে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ

দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রাহককে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন অভিযোগকারী। তাঁদের ভাষ্য, নির্ধারিত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে কয়েকজন গ্রাহককে একটি কক্ষে আটকে মারধর করা হতো।

এ-সংক্রান্ত একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে সিলেটের খাদিমনগর এলাকার রেদুওয়ান আলম রাজুকে রাত ১২টা পর্যন্ত আটকে রেখে হকিস্টিক দিয়ে মারধর করা হয়। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

হাসপাতালের নথিতে ঘটনার প্রমাণ রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং চিকিৎসার নথির সঙ্গে অভিযোগের সামঞ্জস্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

দুদকের অভিযানের প্রসঙ্গ

এর আগে, ২০২৫ সালের ৭ মে সিলেট বিআরটিএ কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযান পরিচালনার খবর প্রকাশিত হয়। সে সময় দেলোয়ার হোসেনের কক্ষ থেকে পাঁচটি ব্যাংক চেক, তিনটি মোবাইল ফোন এবং একটি হকিস্টিক উদ্ধার করা হয়েছিল বলে দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রায় ৫০ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে। তৎকালীন দুদক সিলেট অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আশরাফ উদ্দিন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন বলেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

তবে অভিযানে কোনো সামগ্রী উদ্ধার হওয়া বা অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালিত হওয়া নিজে থেকেই অপরাধ প্রমাণ করে না। এ ঘটনায় পরবর্তী তদন্ত, অনুসন্ধান কিংবা আইনগত কার্যক্রমের ফলাফল কী, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

কুমিল্লায় অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

অভিযোগকারীদের মতে, সিলেটের পর কুমিল্লা বিআরটিএ কার্যালয়েও দেলোয়ার হোসেনকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের দাবি, দুই কার্যালয়ের কার্যক্রম, যানবাহনের নথি এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিআরটিএর সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা কার্যকর করা, সরকারি ফি দৃশ্যমান স্থানে প্রকাশ, অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা জোরদার এবং দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংক লেনদেন যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

কুমিল্লা বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালচক্রের তৎপরতা, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সেবা দিতে বিলম্ব এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশের অভিযোগের বিষয়ে দেলোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।