দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ধরে সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ রাজধানীর ওসমানী উদ্যান। আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে উদ্যানের ভেতরে নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা। তবে এত বিপুল অবকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার বিকেলে ওসমানী উদ্যান পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উদ্যানের ভেতরে যেভাবে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে, এমন দৃশ্য তিনি বিশ্বের অন্য কোথাও দেখেননি। তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কাছে বিষয়টি ব্যতিক্রমী মনে হয়েছে।
আগামী ১৯ অক্টোবর ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ এবং সেখানে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধনের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এ উপলক্ষে প্রস্তুতির অগ্রগতি দেখতে মঙ্গলবার উদ্যান পরিদর্শনে যান প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা।
পরিদর্শনের সময় উদ্যানের ভেতরে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগের সরকারের সময়ে এসব অবকাঠামো নির্মাণে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। এখন এগুলো সরকারি সম্পদ হওয়ায় দীর্ঘদিন বন্ধ না রেখে উদ্যানটি মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। পরের মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজের উদ্বোধন করা হয়। প্রাথমিকভাবে ১০ মাসের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি।
পরবর্তী সময়ে কয়েক দফা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের গতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর একপর্যায়ে আগের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপরও দীর্ঘ সময় ধরে উদ্যানটি সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় উদ্যানের ভেতরে পাঠাগার, খাবারের দোকান, গাড়ি পার্কিং, ব্যায়ামাগার, টেবিল টেনিস ও বিলিয়ার্ড খেলার ব্যবস্থা, এটিএম বুথ, ওষুধের দোকান, নগর জাদুঘর, শিশুদের খেলার স্থান, লেক ও ঘাট, মাঠ এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রায় ২৪ একর আয়তনের এই উদ্যান একসময় পুরান ঢাকা ও আশপাশের এলাকার মানুষের হাঁটা, বিশ্রাম ও বিনোদনের অন্যতম স্থান ছিল। দীর্ঘদিন প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকায় এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নগরবাসী।
আধুনিকায়ন প্রকল্পের পাশাপাশি ওসমানী উদ্যানে আলাদা প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়েছে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।
স্মৃতিস্তম্ভের কেন্দ্রীয় স্তম্ভের উচ্চতা ৯০ ফুট। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ওই আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরার উদ্দেশ্যে স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, আগামী ১৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়নকাজ এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করবেন। পরে উদ্যান প্রাঙ্গণে একটি সুধী সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই যোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।