বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬
১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ফারজানা রুপার সঙ্গে সন্তানদের সাক্ষাতের অনুমতি ট্রাইব্যুনালের

>> ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে চিকিৎসা, চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত কচুয়ার স্বাস্থ্যসেবা

>> উচ্চশিক্ষার নতুন গন্তব্য হয়ে উঠছে সিলেট

>> মেসির সম্মানে আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে ১০ মিনিটে থামবে খেলা

>> দুই হাত তুলে রাস্তা পার হওয়ার সময় বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল রতনের

>> ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে চট্টগ্রামে ৩ নম্বর রুটের মিনিবাস বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

>> গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট কাটাতে সময় লাগতে পারে, চুরি-লুটপাট বন্ধে নয়: ক্যাব সভাপতি

>> নভেম্বরে চার জাতির টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের মুখোমুখি জাপান

>> আত্মশুদ্ধির পথে নিভৃত ইবাদতের গুরুত্ব

>> বন্যা-ভাঙন ঠেকাতে ‘জাদুর ঘাস’ ব্যবহারের পরিকল্পনা সরকারের

আপনি পড়ছেন : ঢাকা

ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে চট্টগ্রামে ৩ নম্বর রুটের মিনিবাস বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা


Rabeya ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:২৭



ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে চট্টগ্রামে ৩ নম্বর রুটের মিনিবাস বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা


চট্টগ্রাম নগরে নির্ধারিত ভাড়া সমন্বয়ের দাবিতে ৩ নম্বর রুটের মিনিবাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন পরিবহনশ্রমিক ও মালিকদের একটি অংশ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মুরাদপুর হয়ে নিউমার্কেট রুটে মিনিবাস না চলায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বাধ্য হয়ে অনেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিকল্প পরিবহনে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

সকালে মুরাদপুর থেকে নিউমার্কেট যাওয়ার জন্য বের হন মোহাম্মদ টিপু। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ৩ নম্বর রুটের কোনো মিনিবাস না পেয়ে শেষ পর্যন্ত অটোরিকশায় যেতে হয় তাঁকে। এতে ১৮০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে। অথচ মিনিবাসে তাঁর যাওয়ার কথা ছিল ১০ টাকায়।

টিপু বলেন, নির্ধারিত ভাড়ায় যেতে না পারায় অতিরিক্ত ১৭০ টাকা খরচ হয়েছে। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এ ধরনের বাড়তি ব্যয় বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।

দুপুর ১২টা পর্যন্ত মুরাদপুর এলাকায় ৩ নম্বর রুটের কোনো মিনিবাস চলাচল করতে দেখা যায়নি। তবে সকালে কয়েকটি গাড়ি রাস্তায় নামলেও পরে সেগুলোও মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আতুরার ডিপো থেকে ৩ নম্বর রুটের একটি মিনিবাসে উঠেছিলেন মোহাম্মদ মোশাররফ। তাঁর গন্তব্য ছিল প্রবর্তক মোড়। কিন্তু বাসটি মুরাদপুরে পৌঁছানোর পর তাঁকে নামিয়ে দেওয়া হয়। চালক জানান, ভাড়া সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত বাস আর সামনে যাবে না।

মোশাররফ জানান, স্বাভাবিক সময়ে আতুরার ডিপো থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত তাঁর ভাড়া ৭ টাকা। মুরাদপুরে নেমে অন্য যানবাহনে যেতে হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁর খরচ হয়েছে ২০ টাকা।

এদিকে, চট্টগ্রামে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান গ্যাসসংকটের প্রভাবও পড়েছে গণপরিবহনে। পরিবহনশ্রমিকদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। চালকদের দাবি, সিএনজি স্টেশনে গ্যাস নেওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে দৈনিক ট্রিপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, গ্যাসচালিত হিউম্যান হলারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে নতুন ভাড়ার তালিকা নেই। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের পর এ ধরনের যানবাহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে ৩, ৭, ৮ ও ১০ নম্বর রুটসহ বিভিন্ন পথে ভাড়া আদায়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, ডিজেলচালিত বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪২ পয়সা নির্ধারিত থাকলেও গ্যাসচালিত হিউম্যান হলারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তালিকা না থাকায় চালক ও সহকারীরা নিজেদের মতো করে ভাড়া নিচ্ছেন। কোথাও কোথাও যাত্রীদের কাছ থেকে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে।

শাহজাহান অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পক্ষে নন। তাঁর মতে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) উচিত গ্যাসের বর্তমান দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা এবং প্রতিটি গাড়িতে সেই তালিকা দৃশ্যমানভাবে টানিয়ে দেওয়া। এতে যাত্রী ও শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ কমবে।

গ্যাসসংকটের কারণে পরিবহন খাতের ব্যয় বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আগে দ্রুত গ্যাস নেওয়া সম্ভব হলেও বর্তমানে একটি গাড়িকে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ কারণে চালকদের সময় ও অর্থ—দুই ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। গণপরিবহনের জন্য সিএনজি সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

শাহজাহানের দাবি, শুধু ভাড়া নিয়ে বিরোধের কারণে নয়, প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়েও অনেক মালিক গাড়ি রাস্তায় নামাননি। তাঁর ভাষ্য, বুধবার নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফিটনেস থাকা কিছু গাড়িকেও বিভিন্ন কারণে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। বড় অঙ্কের জরিমানার আশঙ্কায় অনেকে গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গ্যাসের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ, হিউম্যান হলারের জন্য নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা প্রকাশ ও গাড়িতে তা প্রদর্শনের দাবি জানিয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা। একই সঙ্গে গণপরিবহনে গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার এবং অভিযানের ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধের দাবিও রয়েছে।

তবে স্থানীয় পর্যায়ে ইচ্ছেমতো গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বিআরটিএ। বিআরটিএ চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. সানাউল হক বলেন, গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি রয়েছে। গাড়ি চলাচল বন্ধ করে স্থানীয়ভাবে ভাড়া বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ নেই।

তিনি জানান, ভাড়া পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। কেন্দ্রীয় কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। নতুন ভাড়া নির্ধারণ হলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

৩ নম্বর রুটের মিনিবাস চলাচল বন্ধ থাকার বিষয়টি আগে তাঁর জানা ছিল না বলেও জানান সানাউল হক। তিনি বলেন, নগরের বিভিন্ন এলাকায় বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। তবে ৩ নম্বর রুটে গাড়ি বন্ধ থাকার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে তাঁর কথা হয়নি।