ঢাকার সাভারের বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ খানাখন্দ ও ভাঙাচোরার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ। কোথাও সড়ক সংকুচিত, কোথাও চলছে কার্পেটিং বা ড্রেন নির্মাণ। ফলে প্রতিদিনের যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ, চালক ও শিল্পকারখানার শ্রমিকেরা।
বাইপাইল–আশুলিয়া সড়কটি সাভার–আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকার সঙ্গে আশুলিয়া এবং উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগেও সড়কটির ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সড়কের বিভিন্ন অংশের বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ বাড়ছে। রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়ছেন স্বজনেরা।
সম্প্রতি বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত এলাকায় দেখা যায়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের কারণে বাইপাইল মোড়ের কিছু অংশ খোঁড়া হয়েছে। সেখানে কাদা জমে থাকায় সড়ক সংকুচিত হয়ে যানজট তৈরি হচ্ছে। বাইপাইল মোড় থেকে বগাবাড়ী পর্যন্ত ইটের সলিং করা অংশের বিভিন্ন জায়গায় ইট উঠে গিয়ে গর্ত তৈরি হয়েছে।
ইউনিক বাসস্ট্যান্ড থেকে শিমুলতলা পর্যন্ত নতুন সড়কের কাজ করা হয়েছে। সরকার মার্কেট থেকে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত চলছে কার্পেটিংয়ের কাজ। নরসিংহপুর এলাকায় নির্মাণকাজের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। আবার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলারের পাশে বালু জমিয়ে রাখার কারণে যানবাহনকে উঁচু-নিচু পথ দিয়ে চলতে হচ্ছে।
ড্রেন নির্মাণের কারণে নিশ্চিন্তপুর এলাকাতেও সড়ক সংকুচিত হয়েছে। আল মুসলিম অ্যাপারেলস থেকে ঘোষবাগের বোরাক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পর্যন্ত আশুলিয়ামুখী লেনের কাজ করা হয়েছে। অন্যদিকে বোরাক পলিটেকনিক থেকে জিরাব বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্ত ও উঁচু-নিচু জায়গা তৈরি হয়েছে। কিছু অংশে আবার কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে।
সড়কের খানাখন্দের কারণে যানবাহন হেলেদুলে চলাচল করছে। চালকদের অভিযোগ, এতে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। চাকা ফেটে যাওয়া, ব্রেক ও পাতির ক্ষতির মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।
শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এই সড়কের আশপাশে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক বসবাস করেন। তাঁদের অনেকেই আশুলিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। কিন্তু সড়কের দুরবস্থার কারণে কেউ কেউ বিকল্প পথে সাভারের হাসপাতালগুলোতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এতে ওই এলাকার শিল্পকারখানাগুলোর পণ্য পরিবহনে কিছুটা সুবিধা হয়েছে। তবে সেতুর বাইরে থাকা সড়কের বেহাল অংশের কারণে শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলাচলে এখনো সমস্যা রয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, যেসব জায়গায় গর্ত বা খানাখন্দ তৈরি হয়েছে, সেগুলো মেরামত করা হলেও বৃষ্টির কারণে কিছু অংশ আবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আশুলিয়া থেকে বাইপাইল ও ইপিজেড পর্যন্ত এক পাশের দুই লেনের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। কাজ শেষ হওয়া অংশগুলো পর্যায়ক্রমে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।