শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ‘শেখ হাসিনা ফিরলে পুলিশ কিছুই করতে পারবে না’—অডিও ছড়ানোর পর ওসি প্রত্যাহার

>> শিক্ষক হেনস্তা থেকে জিন্নাহপ্রীতি, ডাকসুর কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন

>> জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

>> হাসান মাহমুদকে পেছনে ফেলে আইসিসির আগস্টের মাসসেরা দিনুশা

>> ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড: বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবি

>> হুতিদের ঠেকাতে মিত্রদের কাছে সামরিক সহায়তা চাইছে সৌদি আরব

>> শত বছরের পশ্চিম বাজার, হাট থেকে রেমিট্যান্সনির্ভর বাণিজ্যকেন্দ্র

>> চুক্তির মাধ্যমে চার বন্ধ পাটকল চালু করল আবুল খায়ের গ্রুপ

>> হ্যাটট্রিকের কথা ভুলে গিয়েছিলেন খালেদ, কেন্টের হয়ে অভিষেকে নিলেন ৮ উইকেট

>> রাশিয়ার তেল কিনলে ভারতেও ১০০% পর্যন্ত শুল্কের ক্ষমতা, ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় বিল

আপনি পড়ছেন : ঢাকা

শিক্ষক হেনস্তা থেকে জিন্নাহপ্রীতি, ডাকসুর কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন


Rabeya ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৩৭



শিক্ষক হেনস্তা থেকে জিন্নাহপ্রীতি, ডাকসুর কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একের পর এক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়ছে। শিক্ষক মূল্যায়ন, শিক্ষকের সঙ্গে আচরণ এবং ডাকসুর সংগ্রহশালায় ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থাপন—বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ।

সমালোচকদের ভাষ্য, ডাকসুর ঐতিহ্যগত নির্দলীয় অবস্থান ও ভূমিকার সঙ্গে সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডের সামঞ্জস্য নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও সংকটের সময়ে ডাকসু শিক্ষার্থীদের ঐক্যের জায়গা হিসেবে ভূমিকা রেখেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে ডাকসুর সঙ্গে রাজনৈতিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। তবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্প্রতি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীনকে ডাকসু নেতাদের হাতে হেনস্তার ঘটনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতীতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও, তাঁকে এভাবে হেনস্তা করা সমর্থনযোগ্য নয় বলে মত দিয়েছেন লেখক।

এদিকে ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য একটি ওয়েবসাইট ও প্রশ্নমালা চালুর বিষয়টিও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কেউ এটিকে শিক্ষক হেনস্তার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ শিক্ষকদের রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে চাপের মুখে ফেলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে এটিকে অপরিপক্ব উদ্যোগ হিসেবেও কেউ কেউ দেখছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেছেন, এর মাধ্যমে শিক্ষকদের সামাজিকভাবে হেয় করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

লেখাটিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শিক্ষকদের পাঠদান সম্পর্কে মতামত নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বা বিভাগের নির্দিষ্ট পদ্ধতি থাকা উচিত। এ ধরনের মূল্যায়নে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী—উভয়ের গোপনীয়তা রক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট একাডেমিক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধান গুরুত্বপূর্ণ।

বিদেশে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে লেখক জানান, সেখানে সেমিস্টার শেষে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট প্রশ্নমালার মাধ্যমে কোর্স ও শিক্ষাদান সম্পর্কে মতামত নেওয়া হতো। পরে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ গোপনীয়তা বজায় রেখে সেগুলো পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে প্রয়োজনীয় মতামত জানাত। এ প্রক্রিয়ায় ছাত্র সংসদের কোনো ভূমিকা থাকত না।

লেখকের মতে, শিক্ষক মূল্যায়নের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষাদানের মান পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতে কোর্স আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি করা।

ডাকসুর সংগ্রহশালায় ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থাপন নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। লেখাটিতে অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হলেও শেখ মুজিবুর রহমানকে বিকৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে শেখ মুজিবের ছেলে শেখ কামালের বিয়ের ছবিও সংগ্রহশালায় রাখার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

সংগ্রহশালায় ৭ মার্চের ভাষণ কিংবা স্বাধীনতা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ছবি না থাকার কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট সমন্বয়কারীর ‘ইচ্ছে হয়নি’—এমন বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে লেখাটিতে। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে লেখক জানতে চেয়েছেন, ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে কি বাংলাদেশের ইতিহাস উপস্থাপন করা উচিত।

সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশের আপত্তির কথাও লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীরা সেখানে জিন্নাহর ছবি ভাঙচুর করেন এবং একই স্থানে গোলাম আযমকে জুতাপেটার একটি ছবি টাঙানো হয়। লেখকের মতে, এ ধরনের ছবি প্রদর্শনও ইতিবাচক সংস্কৃতির উদাহরণ নয়।

লেখায় ডাকসুর অতীতের বিভিন্ন ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে তৎকালীন ভিপি তোফায়েল আহমদের নেতৃত্বে সর্বদলীয় ছাত্র পরিষদ গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৭১ সালে ডাকসুর তৎকালীন ভিপি আ স ম আবদুর রব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।

১৯৯০ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও ডাকসুর নেতৃত্বাধীন ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর নুরুল হক নুর ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিও লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে।

লেখকের মতে, এসব ঐতিহাসিক ঘটনা ডাকসুর ঐক্যবদ্ধ ও আন্দোলনমুখী ভূমিকার উদাহরণ। এর বিপরীতে বর্তমান ডাকসুকে শিক্ষক হেনস্তা, শিক্ষক মূল্যায়ন, সংগ্রহশালায় ইতিহাস উপস্থাপন এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব নিয়ে নানা বিতর্কের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

লেখাটির শেষাংশে বর্তমান ডাকসু নেতাদের প্রতি ঐতিহ্য ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। লেখকের আশা, ডাকসু এমন কার্যক্রম গ্রহণ করবে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মত ও আদর্শের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা আরও শক্তিশালী করবে।