শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ‘শেখ হাসিনা ফিরলে পুলিশ কিছুই করতে পারবে না’—অডিও ছড়ানোর পর ওসি প্রত্যাহার

>> শিক্ষক হেনস্তা থেকে জিন্নাহপ্রীতি, ডাকসুর কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন

>> জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

>> হাসান মাহমুদকে পেছনে ফেলে আইসিসির আগস্টের মাসসেরা দিনুশা

>> ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড: বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবি

>> হুতিদের ঠেকাতে মিত্রদের কাছে সামরিক সহায়তা চাইছে সৌদি আরব

>> শত বছরের পশ্চিম বাজার, হাট থেকে রেমিট্যান্সনির্ভর বাণিজ্যকেন্দ্র

>> চুক্তির মাধ্যমে চার বন্ধ পাটকল চালু করল আবুল খায়ের গ্রুপ

>> হ্যাটট্রিকের কথা ভুলে গিয়েছিলেন খালেদ, কেন্টের হয়ে অভিষেকে নিলেন ৮ উইকেট

>> রাশিয়ার তেল কিনলে ভারতেও ১০০% পর্যন্ত শুল্কের ক্ষমতা, ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় বিল

আপনি পড়ছেন : ফরিদপুর

চুক্তির মাধ্যমে চার বন্ধ পাটকল চালু করল আবুল খায়ের গ্রুপ


Rabeya ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:০২



চুক্তির মাধ্যমে চার বন্ধ পাটকল চালু করল আবুল খায়ের গ্রুপ


দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থায় চারটি পাটকল পুনরায় চালু করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। এসব কারখানা চালুর ফলে নতুন করে প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। উৎপাদিত পাটের সুতা ও পাটজাত পণ্য ইতিমধ্যে বিদেশেও রপ্তানি শুরু হয়েছে।

ফরিদপুরের রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজ নানা সমস্যার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন অনেক শ্রমিক। চলতি বছর আবুল খায়ের গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান শাহ অ্যাগ্রো লিমিটেডের উদ্যোগে কারখানাটি আবার উৎপাদনে ফিরেছে।

রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে ফরিদপুরের ফরিদপুর জুট ফাইবার্স ও দাহমাশী জুট ইন্ডাস্ট্রিজ এবং মাগুরার এআর জুট মিলসও নতুন করে চালু করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ ও রুগ্‌ণ এসব কারখানা চুক্তির আওতায় এনে পুনরায় উৎপাদন শুরু করা হয়।

আবুল খায়ের গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান, গত বছর পাট কেনাবেচার ব্যবসায় প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তী সময়ে পাটপণ্যের ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা থেকে বেসরকারি খাতের চারটি বন্ধ পাটকলের মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। এরপর চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে কারখানাগুলো চালু করা হয়।

নতুন করে চালু হওয়া চারটি পাটকল থেকে বছরে ৮০ হাজার মেট্রিক টন পাটের সুতা ও অন্যান্য পাটজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এখন পর্যন্ত এসব কারখানায় উৎপাদিত প্রায় ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের পাটের সুতা রপ্তানি করা হয়েছে। এসব পণ্যের প্রধান বাজার তুরস্ক ও চীন।

আবুল খায়ের গ্রুপের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল শেখ শাবাব আহমেদ বলেন, পাটপণ্যের ব্যবসা তুলনামূলকভাবে বেশি মূলধননির্ভর। তাই নতুন কারখানা স্থাপনের পরিবর্তে বন্ধ কারখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করে সেগুলো চালু করা হয়েছে।

তিনি জানান, এ ব্যবস্থায় আবুল খায়ের গ্রুপ পাট কিনে কারখানায় সরবরাহ করছে। আর সংশ্লিষ্ট কারখানার কর্তৃপক্ষ শ্রমিক ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদনের দায়িত্ব পালন করছে। উৎপাদিত পণ্য পরে আবুল খায়ের গ্রুপ বিদেশে রপ্তানি করছে।

চারটি কারখানা চালুর পর আরও দুই থেকে তিনটি বন্ধ পাটকল পুনরায় চালুর বিষয়ে মালিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান শেখ শাবাব আহমেদ। চুক্তি চূড়ান্ত হলে সেসব কারখানাতেও উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি খাতের তিন থেকে চারটি বন্ধ পাটকল ইজারায় নেওয়ার জন্য আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ভবিষ্যতে বেশি মূল্য সংযোজন করা যায়—এমন পাটপণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন শেখ শাবাব আহমেদ। এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে এবং নতুন কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি জানান।

তাঁর মতে, বাংলাদেশের পাটের মান ভালো এবং পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে। এ কারণে পাট খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে পাটপণ্যের বাজার আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এর সুফল পরোক্ষভাবে পাটচাষিরাও পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক বলেন, প্রচলিত ব্যবসায়িক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে আবুল খায়ের গ্রুপ বন্ধ কারখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করে পাটপণ্যের ব্যবসায় যুক্ত হয়েছে। তাঁর মতে, বন্ধ কারখানা চালুর এই মডেলটি কার্যকর হতে পারে।

বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো পাটপণ্যের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং বহুমুখী পাটপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে মনোযোগ দিলে দেশের পাট খাত আরও উপকৃত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।