কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে মিয়ানমার থেকে আসা একটি নৌকা ডুবে এক রোহিঙ্গা নারী ও তাঁর ৯ বছর বয়সী ছেলের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে বাহারছড়া ইউনিয়নের বড় ডেইল-কচ্ছপিয়া নৌঘাটসংলগ্ন সাগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নারীর নাম ছুরা খাতুন (২৮)। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, তিনি রোহিঙ্গা নাগরিক। নৌকাডুবির পর তাঁর ও তাঁর ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি এবং বাকিরা রোহিঙ্গা। তবে একজন নারী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
পুলিশ ও কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, নৌকাটি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে টেকনাফের বাহারছড়া উপকূলে আসে। বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় নৌকাটি উল্টে ডুবে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন।
উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের কয়েকজন জানান, প্রায় এক বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে তাঁদের মিয়ানমারে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে তাঁদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়। পরে সোমবার রাতে নৌপথে মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য তাঁদের নৌকায় তোলা হয়।
উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন শরণার্থীশিবিরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
বাহারছড়া পুলিশের তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আবু সাইদ জানান, নৌকাটি সাগরে ডুবে যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় ১৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ১ জন শিশু রয়েছেন।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া ১৬ জনকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। নৌকাটিতে মোট কতজন ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।