কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া চ্যানেলে মাছ ধরার একটি ট্রলার ডুবে দুই জেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে কুতুবজোম ইউনিয়নের সোনাদিয়া চ্যানেলের ফাঁড়ি এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন কুতুবজোম ইউনিয়নের খোন্দপাড়ার ফয়েজ আহমেদ (৬০) এবং কামিতার পাড়ার ছলিম উল্লাহর ছেলে সাইফুল করিম (৩৭)। নিখোঁজ জেলেরা হলেন খোন্দকার পাড়ার নুরুল আলম (২৮) ও বড় মহেশখালী ইউনিয়নের জাগিরাঘোনা এলাকার মুহিব উল্লাহ (৫৫)। মুহিব উল্লাহ নিহত সাইফুল করিমের শ্বশুর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুতুবজোম এলাকার ফরিদুল আলমের মালিকানাধীন ট্রলারটি নিয়ে আটজন জেলে বুধবার রাত ৯টার দিকে সাগরে মাছ ধরতে বের হন। বৃহস্পতিবার ভোরে সোনাদিয়া চ্যানেলের ফাঁড়ি এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ঝোড়ো বাতাস ও বড় ঢেউয়ের মধ্যে পড়ে ট্রলারটি উল্টে যায়।
ট্রলারডুবির সময় চারজন জেলে পানিতে পড়ে যান। অন্য চারজন সাঁতরে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পরে স্থানীয় জেলেরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার করেন।
ট্রলারের মালিক ফরিদুল আলম নিজেই মাঝির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি জানান, চ্যানেলের ফাঁড়ি এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। প্রথম তিনটি ঢেউ সামলে উঠলেও চতুর্থ ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উল্টে যায়। এরপর তিনি ও আরও তিনজন সাঁতরে তীরে ওঠেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হয় এবং দুটি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সুলতান জানান, স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরই মধ্যে স্থানীয় জেলেরা তল্লাশি চালিয়ে দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার করেন। নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ওসি বলেন, মরদেহ দুটির সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঝোড়ো বাতাস ও উচ্চ জোয়ারের শক্তিশালী ঢেউয়ের আঘাতেই ট্রলারটি ডুবে যায়।