বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬
১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ট্রাফিক আইন ভাঙার অভিযোগে বিমানমন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে দুই মামলা

>> ঝুট কাপড়েই সৈয়দপুরে শত কোটি টাকার পোশাকের বাণিজ্য

>> সোনাদিয়া চ্যানেলে ট্রলারডুবি, প্রাণ গেল দুই জেলের; নিখোঁজ আরও দুজন

>> তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ লাখ টাকার প্যাকেজ, আবেদন করতে লাগবে যে যোগ্যতা

>> স্যাম্পল দেখেই দেশি-বিদেশি যন্ত্র বানান সৈয়দপুরের কারিগরেরা

>> বগুড়া মেডিকেলের বহির্বিভাগ বন্ধ, রোগী-স্বজনদের বিক্ষোভ

>> সাগরে আটকে রাতভর ফেরি, আড়াই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে লাগল ১৯ ঘণ্টা

>> ভারত প্রশ্নে বাংলাদেশের কৌশল কী হতে পারে?

>> মার্কিন মুদ্রায় ট্রাম্পের প্রতিকৃতি, শত বছর পর নতুন নজির

>> জানুয়ারিতে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা, তারিখ ঘোষণা

আপনি পড়ছেন : বগুড়া

বগুড়া মেডিকেলের বহির্বিভাগ বন্ধ, রোগী-স্বজনদের বিক্ষোভ


Rabeya ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৪:০০



বগুড়া মেডিকেলের বহির্বিভাগ বন্ধ, রোগী-স্বজনদের বিক্ষোভ


বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির মধ্যে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে দিলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা বিপাকে পড়েন। অনেকে চিকিৎসা না নিয়েই হাসপাতাল ছাড়েন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নিজেদের চার দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বহির্বিভাগের সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বহির্বিভাগে রোগীদের ব্যাপক ভিড় ছিল। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও ফলোআপের জন্য অনেকে টিকিটের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। এর মধ্যেই হঠাৎ কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে জানানো হয়, বহির্বিভাগে আর রোগী দেখা হবে না।

এ ঘটনায় রোগী ও স্বজনেরা সেখানে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, দূরদূরান্ত থেকে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা না পেয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টিকিট কাউন্টার চালুর চেষ্টা করলেও আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা তা করতে দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

শেরপুর উপজেলার রাজবাড়ী গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী কোহিনুর বেগম নিউরো মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক দেখাতে হাসপাতালে এসেছিলেন। বহির্বিভাগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁকেও চিকিৎসা না পেয়েই ফিরে যেতে হয়।

কোহিনুর বেগম জানান, বাড়ি থেকে হাসপাতালে আসতে তাঁর প্রায় ২০০ টাকা খরচ হয়েছে। এখন চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। বাইরে কোনো চিকিৎসকের কাছে দেখানোর মতো আর্থিক সামর্থ্যও তাঁর নেই।

হাসপাতালের উপপরিচালক মনজুর-ই-মুর্শেদ বলেন, বহির্বিভাগের সেবা বন্ধ থাকলেও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে বহির্বিভাগ বন্ধের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রোগীর স্বজন ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে জড়ান। একপর্যায়ে তাঁরা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ায় হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাঁর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।

ওই ঘটনার পর নিরাপত্তাসহ চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। তাঁদের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কাজে ফিরবেন না বলে জানিয়েছেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে। সভায় চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।