সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতা কার্যকর হলেও এবারের আয়কর রিটার্নে সেই বাড়তি বেতন-ভাতার হিসাব দেখাতে হবে না। চলতি রিটার্নে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্জিত আয় হিসাব করা হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর বিধান অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের নির্দিষ্ট তিন ধরনের আয় করযোগ্য। অন্যদিকে ৪২ ধরনের ভাতা ও সুবিধাকে করমুক্ত রাখা হয়েছে।
বর্তমানে দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এখনো আয়কর কাঠামোর বাইরে থাকলেও আইন অনুযায়ী করযোগ্য আয় থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আয়কর দিতে হয়।
দশম গ্রেড বা তার ওপরে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত নিয়মে রিটার্ন দাখিল না করলে বেতন-ভাতা গ্রহণের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হতে পারে।
২০২৩ সালের ১৩ জুলাই জারি করা আয়কর-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন, উৎসব ভাতা এবং বোনাস করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব আয়ের ওপর প্রচলিত আয়কর কাঠামো অনুযায়ী কর দিতে হয়।
অন্যদিকে, এনবিআরের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আয়কর নির্দেশিকায় সরকারি চাকরিজীবীদের ৪২ ধরনের ভাতা ও সুবিধাকে করমুক্ত রাখা হয়েছে।
করমুক্ত ভাতার মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা ভাতা, নববর্ষ ভাতা, বাড়িভাড়া, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা, শিক্ষা সহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, পাহাড়ি ভাতা, ভ্রমণ ও যাতায়াত ভাতা।
এ ছাড়া টিফিন, পোশাক, আপ্যায়ন, ধোলাই, বিশেষ ও প্রেষণ ভাতাও করমুক্ত সুবিধার তালিকায় রয়েছে।
বিভিন্ন বিশেষায়িত দায়িত্বের জন্য দেওয়া জুডিশিয়াল ভাতা, চৌকি ভাতা, ঝুঁকি ভাতা, অ্যাকটিং অ্যালাউয়েন্স, মোটরসাইকেল ভাতা, টেলিকম অ্যালাউয়েন্স, ড্রাইভার ও ক্লিনার অ্যালাউয়েন্সও এই তালিকায় রয়েছে।
এর পাশাপাশি মাউন্টেড পুলিশ অ্যালাউয়েন্স, পিবিএক্স অ্যালাউয়েন্স, সশস্ত্র শাখা ভাতা, নার্সিং অ্যালাউয়েন্স, ট্রাফিক অ্যালাউন্স, রেশন মানি, সীমান্ত ভাতা, ব্যাটম্যান ভাতা, ইন্সট্রাকশনাল অ্যালাউয়েন্স, নিযুক্তি ভাতা, আউটফিট ভাতা ও গার্ড পুলিশ ভাতাসহ আরও কয়েক ধরনের সুবিধা করমুক্ত।
অর্থাৎ সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সব ধরনের আয় করযোগ্য নয়। নির্দিষ্ট কয়েকটি আয় থেকে আয়কর আদায় করা হলেও সরকারি দায়িত্ব ও বিভিন্ন প্রয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশির ভাগ ভাতা করের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
এদিকে নতুন বেতন-ভাতা কার্যকর হওয়ায় চলতি মাস থেকেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থ পেতে শুরু করবেন। তবে এই বাড়তি অর্থের হিসাব পরবর্তী আয়কর রিটার্নে সংশ্লিষ্ট করবর্ষ অনুযায়ী বিবেচিত হবে।